
ইটানগর, ২৮ মাৰ্চ (হি.স.) : অরুণাচল প্রদেশের নাহরলগুন পুলিশ মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাত তরুণীকে উদ্ধার করেছে। নারী পাচারের অভিযোগে পুলিশ অসমের দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
আজ শনিবার ইটানগর পুলিশের আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ইটানগর ক্যাপিটাল রিজিয়ন পুলিশের অধীন বন্দরদেওয়া থানার দল এবং টি ইয়াংকি (আইপিএস প্রবেশনারি)-কে সঙ্গে নিয়ে এসডিপিও ঋষি লংদো মানবপাচারের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য লাভ করেছেন।
এনকে লজ এবং লাভলি লজিঙে হানা দিয়ে অসমের বাসিন্দা এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল সাত তরুণীকে মানবপাচারকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন অভিযানকাররা। সাত তরুণী পুলিশের কাছে বলেছেন, জোর করে তাঁধের যৌনকর্মে নিযুক্ত করা হচ্ছিল।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্থানীয় জনৈক বাসিন্দার মালিকানাধীন এনকে লজটি বছরখানেক আগে অসমের এক ব্যক্তির কাছে লিজ দেওয়া হয়েছিল। লজের ম্যানেজার মইনাভ দাস জিজ্ঞাসাবাদে নাকি স্বীকার করেছন, গত আট মাস ধরে লজের মোট ছয়টি কক্ষই মানবপাচার সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
একইভাবে, লাভলি লজিংও একাধিক লিজ ও সাব-লিজের মাধ্যমে হাতবদল হয়েছিল। বর্তমান ম্যানেজার ফারদাউস আহমেদ স্বীকার করেছেন, গত তিন থেকে চার মাস ধরে লাভলি লজিংকে পাচার সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা অসম থেকে আর্থিকভাবে দুর্বল তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে এনে তাঁদের জোর করে যৌনকর্মে নিযুক্ত করত। গ্রাহকরা সরাসরি লজের ম্যানেজারদের টাকা দিতেন, যার বড় অংশ তারা নিজেদের কাছে রেখে দিত, আর তরুণীরা পেতেন মাত্র ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ।
গোটা ঘটনায় দুই অভিযুক্ত অসমের মরিগাঁও জেলার বাসিন্দা ফারদাউস আহমেদ (৩৫) এবং ধেমাজি জেলার মইনাভ দাস (৩৪)-এর বিরুদ্ধে ‘ইম্মরাল ট্রাফিক (প্রিভেনশন) আইন, ১৯৫৬’ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, জানিয়েছে রাজ্য পুলিশের আধিকারিক সূত্রটি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস