ডাবল ইঞ্জিনের সরকার অসমকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন যুগের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে : রাজনাথ সিং
- ‘বিজেপির সংকল্প হলো, যে কোনও মূল্যে অসমের সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষা করা, অসমবাসীর সম্মান বজায় রাখা এবং রাজ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা’ তেজপুর (অসম), ৩১ মাৰ্চ (হি.স.) : ডাবল ইঞ্জিনের সরকার অসমকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন যুগের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে,
তেজপুরে জনসভায় ভাষণ দিচ্ছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং


- ‘বিজেপির সংকল্প হলো, যে কোনও মূল্যে অসমের সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষা করা, অসমবাসীর সম্মান বজায় রাখা এবং রাজ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা’

তেজপুর (অসম), ৩১ মাৰ্চ (হি.স.) : ডাবল ইঞ্জিনের সরকার অসমকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন যুগের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, অসম বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার শোণিতপুর জেলার তেজপুর বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের সাফল্যগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধী দল কংগ্রেসের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

রাজনাথ বলেন, বিজেপির সংকল্প হলো যে কোনও মূল্যে অসমের সংস্কৃতি ও পরিচয় রক্ষা করা, অসমবাসীর সম্মান বজায় রাখা এবং রাজ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য নিয়েই আজ ডাবল ইঞ্জিনের সরকার অসমকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির নতুন যুগের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, কংগ্রেসের সরকার সবসময় অসমের সঙ্গে সৎমায়ের মতো আচরণ করেছে, রাজ্যকে উপেক্ষা করেছে, অসমের মানুষকে দিল্লি থেকে, তাদের হৃদয় ও মন থেকেও দূরে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কংগ্রেসের শাসনে এক সময় অসমের নাম উঠলেই উগ্রবাদ, অশান্তি ও অস্থিরতার কথা মনে পড়ত। অসম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে নতুন দিশা দেওয়ার কাজ প্রথম শুরু করেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। বাজপেয়াজি এই অঞ্চলের জন্য আলাদা মন্ত্রালয় গঠন করেছিলেন। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উত্তরপূর্বের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

রাজনাথ সিং বলেন, এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কথা উঠলে উন্নয়ন, সংযোগ, ‘অষ্টলক্ষ্মী’, সম্ভাবনা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির কথা বলা হয়। অসম আজ নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে এবং উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। তিনি বলেন, অসম পুরো উত্তরপূর্বের উন্নয়নের ইঞ্জিন হয়ে উঠছে, অসম এগোলে ভারতও এগোবে।

তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছরে বিজেপি শাসনে অসমের অর্থনীতি প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার আমলে এটি দেশের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে একটি হয়েছে। শিল্প, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে অসমের অর্থনীতিকে প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি আশাবাদী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো ও শিল্প, সব ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। নতুন এইমস ও আইআইএম-এর মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে হাজার হাজার স্কুলকে আধুনিক ‘ড্রিম হাব’-এ পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের।

তিনি জানান, আগে অসমে ছয়টি মেডিক্যাল কলেজ ছিল, এখন তা বেড়ে ১৪টি হয়েছে। আরও ১০টি নির্মাণাধীন। স্বাস্থ্য বাজেট চার হাজার (৪,০০০) কোটি টাকা থেকে বেড়ে নয় হাজার (৯,০০০) কোটিতে পৌঁছেছে। কৃষকদের স্বার্থে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নামরূপে ইউরিয়া প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, অসমে সংযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। রেল বাজেট চারগুণ বেড়ে ১০ হাজার কোটিতে পৌঁছেছে, নতুন হাই-স্পিড করিডর তৈরি হচ্ছে, বিমান চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাজনাথ সিং বলেন, গত ৬-৭ দশকে যেখানে মাত্র তিনটি বড় সেতু নির্মিত হয়েছিল, সেখানে গত ১০ বছরে চারটি নতুন মেগা ব্রিজ তৈরি হয়েছে। বগিবিল ও ধলা-শদিয়া সেতু অসমের সংযোগ ব্যবস্থাকে নতুন শক্তি দিয়েছে। তিনি বলেন, অসম আজ শান্তি, উন্নয়ন ও বিশ্বাসের পথে এগোচ্ছে।

তিনি জানান, অসমে সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেন, তারা ভোটব্যাংকের রাজনীতির জন্য বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বসাতে চায়, যা রাজ্যের জনবিন্যাসে ভারসাম্য ও সংস্কৃতির জন্য হুমকি।

রাজনাথ বলেন, বর্তমান সরকার অনুপ্রবেশকারীদের দখল থেকে লক্ষ লক্ষ বিঘা জমি মুক্ত করেছে, সে সব জমিতে উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য জমির অধিকার ও পাকা বাড়ির সুযোগ তৈরি হয়েছে, গর্ভবতী মহিলাদের ১৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং আয়ুষ্মান স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিজেপি সবসময় অসমের ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। ২০০৩ সালে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে বড়ো ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আজকের নির্বাচটনী সমাবেশে দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতা এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande