
বুদাপেস্ট (হাঙ্গেরি), ১২ এপ্রিল ( হি. স.) : হাঙ্গেরিতে রবিবার সকাল ৬টা (ভারতীয় সময় সকাল ৯:৩০) থেকে সংসদীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওর্বান এবার কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিরোধী দল 'তিসা'-র নেতা পিটার মাগয়ার জনমত সমীক্ষায় ওর্বানকে কড়া টক্কর দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
জানা গেছে , এই নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রবল উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভিক্টর ওর্বানকে হাঙ্গেরির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছেন, যা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্দরে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার একাংশের আশঙ্কা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মাঝে ওর্বানের পরাজয় হাঙ্গেরিকে রাশিয়ার প্রভাব বলয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী ওর্বান দীর্ঘকাল ধরেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের শরণার্থী নীতির ঘোর বিরোধী। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভিক্টর ওর্বান—উভয়েই রক্ষণশীল আদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলিতে বিরোধী নেতা পিটার মাগয়ারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার সংকেত মিলছে।
জানা গেছে , ওর্বান তাঁর শেষ নির্বাচনী সমাবেশে প্রবাসে থাকা হাঙ্গেরীয়দের স্বার্থরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী সরকার অপরিহার্য। পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। ওর্বানের কথায়, ইউক্রেনের ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোকেই বইতে হবে। হাঙ্গেরি এই ব্যবস্থা মেনে নেবে না।
ওর্বান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি থেকে হাঙ্গেরি বঞ্চিত হলে দেশের সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়বে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর পরবর্তী মেয়াদেও কর ছাড় এবং ঋণ সহায়তা প্রকল্পগুলো জারি থাকবে। হাঙ্গেরিকে সুরক্ষিত রাখতে অন্তত ৩০ লক্ষ ভোটের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি