বাংলার যুবসমাজ বিপর্যস্ত, কৃষক হতাশ, তোষণেই ব্যস্ত তৃণমূল সরকার: মেদিনীপুরে তোপ যোগী আদিত্যনাথের
কলকাতা, ২০ এপ্রিল (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে সোমবার রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বর্তমানে যুবসমাজ দিশেহারা, কৃষকরা চরম হতাশ এবং শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে
যোগী আদিত্যনাথ


কলকাতা, ২০ এপ্রিল (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে সোমবার রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বর্তমানে যুবসমাজ দিশেহারা, কৃষকরা চরম হতাশ এবং শিল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে; অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কেবল তোষণের রাজনীতি করতেই ব্যস্ত।

এদিন পিংলা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বাংলায় বালি, কয়লা, জমি এবং গোরু পাচারকারী মাফিয়ারা অবাধে সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী কেবল ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি শুনলেই বিরক্ত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উৎসবের আগে এখানে অশান্তি ছড়ানো হয় এবং ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটে।

উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে যোগী বলেন, ২০১৭ সালের আগে সেখানেও ‘জয় শ্রীরাম’ বললে লাঠিচার্জ বা গুলি চলত। কিন্তু বর্তমানে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে এখন “কার্ফু নেই, দাঙ্গাও নেই”। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বুলডোজার চালানো হচ্ছে এবং রাজ্য এখন মাফিয়া ও গুন্ডারাজ থেকে মুক্ত।

বাংলার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে ৭ হাজার বড় শিল্প এবং ১৮ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ৩০ লক্ষেরও বেশি যুবক বেকার হয়ে পড়েছেন। ধান, আলু ও মাছের উৎপাদনেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং কৃষকরা ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেন, তোষণের রাজনীতির কারণেই রাজ্য সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বাধা দিচ্ছে, যার ফলে অনুপ্রবেশ এবং গোরু পাচার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশে কোনো বৈষম্য ছাড়াই গরিবরা বিনামূল্যে রেশন, আবাসন, পেনশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাচ্ছেন।

এদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, স্বামী বিবেকানন্দ এবং সুভাষচন্দ্র বসুর মতো মনীষীদের স্মরণ করে তিনি বলেন, বাংলা একসময় দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে, আজ তাকে এই চরম বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত করা প্রয়োজন। পিংলার বিজেপি প্রার্থী স্বাগতা মান্না এবং কেশপুরের শুভেন্দু সামন্তের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, একমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টিই রাজ্যে উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande