জনবিন্যাস কাঠামো দ্রুত পরিবর্তনে গভীর শঙ্কা হিমন্ত বিশ্বশর্মার
কলকাতা, ২৫ এপ্রিল (হি স)। পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনবিন্যাস কাঠামো দ্রুত পরিবর্তনে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। শনিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর আলো
সাংবাদিক সম্মেলনে হিমন্ত বিশ্বশর্মা


কলকাতা, ২৫ এপ্রিল (হি স)। পশ্চিমবঙ্গ ও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনবিন্যাস কাঠামো দ্রুত পরিবর্তনে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

শনিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে তিনি একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে রাখেন। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস কাঠামো দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা এবং অসম একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। যদি একটি রাজ্যেও সীমান্ত খোলা থাকে এবং সেখান দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে তাহলে তার প্রভাব পুরো দেশে পড়বে।

অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর রাজ্যেও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে উল্লেখ্যযোগ্য হারে সংখ্যালঘুদের এবং ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা অনুপ্রবেশের ইঙ্গিতবাহী। তিনি সতর্ক করে দেন যে, আগামী ২০ বছরে এই অবস্থা চললে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য সংকটে পড়বে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের কাজ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার কারণে আটকে রয়েছে। ৪৫৬ কিমি সম্ভাব্য কাঁটাতারের কাজের মধ্যে রাজ্য সরকার মাত্র ৭৭ কিমি জমি হস্তান্তর করেছে। অসম , ত্রিপুরায় জোরকদমে কাজ চললেও এখানে হচ্ছে না।

কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২৫,০০০ টাকা জরিমানাও করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান, উত্তর দিনাজপুরে ভোটার বেড়েছে ১০৫%, মালদায় ৯৪.৮%। এছাড়াও তিনি আরও অন্যান্য সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ব্যাপকহারে ভোটার বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, তুষ্টিকরণ এবং সীমান্তে ড্রাগ পাচার, নোট পাচারের আর্থিক লাভের কারণে এই সরকার অনুপ্রবেশ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে উল্লেখ করেন তৃণমূল চায় না অন্য রাজ্য থেকে নেতা বা সাংবাদিক এই রাজ্যে আসুক। তাহলেই এই রাজ্যে কী চলছে সেই সত্য ধরা পড়ে যাবে। তিনি তৃণমূলকে প্রশ্ন করেন, তৃণমূল যখন অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়ে প্রচারে যায় তখন কোনও সমস্যা নেই অথচ অসম বা অন্য রাজ্য থেকে কেউ এলেই কেন তৃণমূলের আপত্তি শুরু হয়ে যায়?

অসমের মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে ওড়িশা ও অসমের তুলনা করে বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গ ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে বাংলায় শিল্প গড়ার চেয়েও ‘সিন্ডিকেট’ ও ‘অভিষেক ট্যাক্স’ (ট্রাক চালকদের ওপর আরোপিত অনৈতিক কর)-এর দাপট বেশি।

এই সঙ্গে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গকে পুনরায় ভারতের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোন্নত রাজ্যে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande