
উজ্জয়িনী, ১ মে (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী ও নাগদা রেলস্টেশনে বৃহৎ পাচারের আশঙ্কায় অভিযান চালিয়ে অন্ত্যোদয় এক্সপ্রেস থেকে ২৬ জন নাবালককে উদ্ধার করা হয়েছে। এই শিশুদের বিহারের মুজাফফরনগর থেকে গুজরাটের আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, প্রায় ১০০ জন নাবালককে শ্রমের কাজে গুজরাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য পেয়ে সক্রিয় হয় প্রশাসন। উজ্জয়িনীর চারটি থানার পুলিশ, আরপিএফ, জিআরপি, শ্রম দফতর এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের যৌথ দলকে সতর্ক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ ট্রেনটি উজ্জয়িনী স্টেশনে পৌঁছলে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। প্রায় আধঘণ্টা ধরে ৫০ জনের বেশি শিশু ও তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যার মধ্যে প্রথমে চারজন নাবালককে উদ্ধার করা হয়।
এরপর ট্রেনটি এগিয়ে গেলে অভিযান পরিচালনাকারী সিএসপি দীপিকা শিন্ডে নাগদা স্টেশনে ট্রেন থামানোর নির্দেশ দেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে আরও ২২ জন নাবালককে নামানো হয়। রাত তিনটে পর্যন্ত চলা অভিযানে মোট ২৬ জন নাবালককে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাগদা থেকে উদ্ধার হওয়া সকলেই নাবালক। এদের মধ্যে দু’জনের বয়স ১৪ বছরের কম এবং বাকিদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। বর্তমানে সকলের কাউন্সেলিং করা হচ্ছে এবং উজ্জয়িনীর জিআরপি-র তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, শিশুদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে গুজরাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যদিও কিছু শিশু জানিয়েছে তারা সোমনাথসহ অন্যান্য জায়গায় ঘুরতে যাচ্ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রম দফতরের সহকারী কমিশনার রাখী জোশী জানিয়েছেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালানো হয়। শিশুদের কারা এবং কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য