
আগরতলা, ১ মে (হি.স.) : ভোট পর্ব শেষ হতেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলেও নতুন করে চাপ বাড়াল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি। শুক্রবার থেকে এক ধাক্কায় প্রায় এক হাজার টাকা বেড়ে গেল ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ত্রিপুরায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৫৮১ টাকা ৫০ পয়সা। এর আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ২৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ, এক লাফে ৯৯৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
একটি গ্যাস এজেন্সির জনৈক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয়, গৃহস্থালির ব্যবহারের ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে আপাতত কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। ফলে সাধারণ পরিবারের ওপর সরাসরি বাড়তি চাপ পড়ছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে তাদের পরিচালন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। অনেকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে খাবারের দাম বাড়ানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় নাও থাকতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বাড়তি খরচ বহন করতে হবে।
ব্যবসায়ী মহলের একাংশের মতে, ধারাবাহিকভাবে জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে ছোট ও মাঝারি রেস্তোরাঁগুলির পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য খরচের চাপ রয়েছে। তার উপর নতুন করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
সব মিলিয়ে, বাণিজ্যিক গ্যাসের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রাজ্যের পরিষেবা খাত ও খাদ্য ব্যবসার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ