বামপন্থী সংগঠনগুলো সর্বদা জনস্বার্থে সংগ্রাম করে এসেছে: পার্থ মুখোপাধ্যায়
আসানসোল, ১ মে (হি. স.) : প্রতি বছরের মতো এবারও ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আসানসোলের অপকার গার্ডেন স্থিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র কার্যালয়ে মে দিবস পালিত হয়েছে। এই বিশেষ দিনে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহিদ বেদিতে মাল্যদানের মাধ্
বামপন্থী সংগঠনগুলো সর্বদা জনস্বার্থে সংগ্রাম করে এসেছে: পার্থ মুখোপাধ্যায়


আসানসোল, ১ মে (হি. স.) : প্রতি বছরের মতো এবারও ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আসানসোলের অপকার গার্ডেন স্থিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-র কার্যালয়ে মে দিবস পালিত হয়েছে। এই বিশেষ দিনে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহিদ বেদিতে মাল্যদানের মাধ্যমে শ্রমিকদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বামপন্থী নেতা ও কর্মীরা শহিদ শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং শ্রম অধিকারের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।

সিপিআই(এম) জেলা কমিটির সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, বামপন্থী সংগঠনগুলো সবসময় সাধারণ মানুষের স্বার্থকে কেন্দ্রে রেখে লড়াই করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন যে, দক্ষিণপন্থী দলগুলো মে দিবসকে কেবল একটি ছুটির দিন হিসেবে দেখে, কিন্তু বামপন্থীদের কাছে এটি শহিদ শ্রমিকদের বলিদানের স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন। লাল পতাকাকে শ্রমিকদের রক্তের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কেন্দ্র সরকারের নতুন চারটি শ্রম কোড শ্রমিকদের দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারগুলোকে বিপন্ন করতে পারে। এর বিরুদ্ধে সব শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন তিনি।

বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, একসময় আসানসোলের যেসব কারখানায় বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করতেন, আজ তার অধিকাংশই বন্ধ। তিনি দাবি করেন, বাম আমলের শেষের দিকে গ্লাস ফ্যাক্টরির মতো শিল্প বন্ধ হওয়ার বিকল্প হিসেবে নতুন কারখানা গড়ার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু এখন বিকল্পের অভাব প্রকট। এর ফলে উচ্চশিক্ষিত যুবক থেকে শুরু করে দক্ষ কারিগররা আজ কর্মহীন। বাধ্য হয়ে পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবকদের দক্ষিণ ভারত, বিশেষ করে কেরলের মতো রাজ্যে কাজের সন্ধানে চলে যেতে হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, বন্ধ কারখানা বা পতিত জমি নিয়ে কোনও সদর্থক নীতি নেই। রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো আড়ালে চলে যাচ্ছে। তাঁর মতে, হিন্দুত্বের রাজনীতির ভিড়ে শ্রমিক শ্রেণির দাবিগুলো গুরুত্ব হারাচ্ছে এবং শ্রমিক বিরোধী নীতি বজায় রেখেই উন্নয়নের দাবি করা হচ্ছে। বর্তমান বিধানসভা নির্বাচনের আবহেও এই আসল ইস্যুগুলো অবহেলিত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোল প্রসঙ্গে পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোর দ্বারা পরিচালিত। তাই বামপন্থীরা এই সমীক্ষার ওপর ভরসা না করে জনগণের আসল রায় অর্থাৎ ভোট গণনার ফলের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, বিজেপি ও অন্যান্য শাসক দলগুলোর মধ্যে কোনও মৌলিক পার্থক্য নেই এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরেও বর্তমানে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ বিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande