টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত তিল চাষ, আরামবাগে নতুন করে ক্ষতির মুখে কৃষকরা
হুগলি , ১ মে (হি.স.) : টানা দু’দিনের অঝোর বৃষ্টিতে আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় তিল চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অকাল বর্ষণে জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু কৃষক। একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকার চাষি
তিলের জমিতে জমে আছে জল


হুগলি , ১ মে (হি.স.) : টানা দু’দিনের অঝোর বৃষ্টিতে আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় তিল চাষে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অকাল বর্ষণে জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বহু কৃষক। একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকার চাষিরা এবার কার্যত নতুন করে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।

স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য, কিছুদিন আগেই আলু চাষে বড়সড় লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁদের। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় অনেকেই বিকল্প হিসেবে তিল চাষের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তুলনামূলক কম খরচ ও দ্রুত ফলনের আশায় এই ফসলকে ঘিরে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে সেই আশায় এখন ভাটা পড়েছে।

এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে জানা যাচ্ছে, বৃষ্টির জল এখনও অনেক জমিতে জমে রয়েছে। তিল এমন একটি ফসল, যা অতিরিক্ত জল সহ্য করতে পারে না। জমিতে দীর্ঘক্ষণ জল দাঁড়িয়ে থাকায় গাছের শিকড় পচে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হচ্ছে। অনেক ক্ষেতেই গাছের পাতা হলদে হয়ে ঝরে পড়ছে, যা ফসল নষ্ট হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। কয়েকজন চাষি জানিয়েছেন, বৃষ্টি যদি দ্রুত না থামে এবং জমির জল না নামে, তবে পুরো ক্ষেতই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে আর্থিক ক্ষতি। বহু কৃষকই ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। বীজ, সার, শ্রম—সব মিলিয়ে খরচের পরিমাণ কম নয়। ফলে ফসল নষ্ট হলে সেই ঋণের বোঝা শোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, একের পর এক ক্ষতির ধাক্কায় তাঁদের কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। পাশাপাশি কৃষি দফতরের তরফে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে উপযুক্ত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। কৃষকদের একাংশের মতে, এখনই সঠিক ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

সব মিলিয়ে, টানা বৃষ্টির জেরে আরামবাগের তিল চাষিদের ভবিষ্যৎ ক্রমশ অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। আবহাওয়ার এই অনিশ্চিত আচরণ শুধু একটি মরশুমের ফসলই নয়, গোটা কৃষি অর্থনীতির ওপরই চাপ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA




 

 rajesh pande