স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় কাশীতে পালিত বট সাবিত্রী ব্রত
বারাণসী, ১৬ মে (হি.স.) : জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে শনিবার ধর্মনগরী কাশীতে শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে পালিত হল বট সাবিত্রী ব্রত। স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন কামনায় সধবা মহিলারা এদিন উপবাস রেখে বট ও অশ্বত্থ গাছের নীচে সাবিত্রী মাতার পুজো
স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় কাশীতে পালিত বট সাবিত্রী ব্রত


বারাণসী, ১৬ মে (হি.স.) : জ্যৈষ্ঠ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যা তিথিতে শনিবার ধর্মনগরী কাশীতে শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে পালিত হল বট সাবিত্রী ব্রত। স্বামীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবন কামনায় সধবা মহিলারা এদিন উপবাস রেখে বট ও অশ্বত্থ গাছের নীচে সাবিত্রী মাতার পুজো করেন। পুজোর পর বটবৃক্ষ প্রদক্ষিণ করে অখণ্ড সৌভাগ্যের প্রার্থনা জানান তাঁরা।

এদিন এভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় বটগাছের নীচে মহিলাদের ভিড় চোখে পড়ে। বিশেষ করে নববিবাহিতাদের মধ্যে উৎসাহ ছিল লক্ষণীয়। নিয়ম মেনে উপবাস পালন করে মহিলারা সুতো দিয়ে বটগাছের গুঁড়ি পেঁচিয়ে ১০৮ বার প্রদক্ষিণ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রসাদ নিবেদন করা হয়।

মীরঘাটের ধর্মকূপ এলাকায় অবস্থিত বট সাবিত্রী মাতার মন্দিরেও দিনভর ছিল ভক্তদের ভিড়। সেখানে সধবা মহিলারা ষোলো শৃঙ্গারের সামগ্রী, ফল ও প্রসাদ নিবেদন করে স্বামীর মঙ্গল কামনা করেন। বটবৃক্ষের গায়ে মৌলি বেঁধে অখণ্ড সৌভাগ্যের আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়।

কাশী তীর্থ পুরোহিত সভার সভাপতি ও ধর্মকূপ এলাকার প্রধান পুরোহিত পণ্ডিত কানহাইয়া লাল ত্রিপাঠী জানান, কাশী খণ্ড অনুযায়ী দশাশ্বমেধ এলাকার মীরঘাটে অবস্থিত বট সাবিত্রী মন্দিরে এই দিনে পুজো করলে বিশেষ ফল লাভ হয়। হিন্দু ধর্মে বিবাহিত মহিলাদের কাছে এই ব্রতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ধর্মতত্ত্ববিদ প্রদীপ পাণ্ডে জানান, সনাতন ধর্মে বটগাছকে দেববৃক্ষ হিসেবে মানা হয়। পুরাণ মতে, এর মূলভাগে ব্রহ্মা, মধ্যভাগে বিষ্ণু এবং অগ্রভাগে শিবের অবস্থান। বিশ্বাস করা হয়, দেবী সাবিত্রীও বটবৃক্ষেই বিরাজ করেন। এই বটগাছের নীচেই সতীত্বের শক্তিতে সাবিত্রী তাঁর মৃত স্বামী সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে আনেন। সেই থেকেই স্বামীর দীর্ঘায়ুর কামনায় বট সাবিত্রী ব্রত পালনের প্রচলন রয়েছে।

এবার বট সাবিত্রী ব্রতের সঙ্গে শনি জয়ন্তী, সৌভাগ্য ও শোভন যোগও মিলিত হয়েছে। পাশাপাশি বুধাদিত্য, নবপঞ্চম, গজলক্ষ্মী ও বিপরীত রাজযোগের মতো একাধিক শুভ যোগ তৈরি হয়েছে বলেও জ্যোতিষীরা জানিয়েছেন।

পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, ভদ্রদেশের রাজকন্যা সাবিত্রী স্বামী সত্যবানের প্রাণরক্ষার জন্য বটবৃক্ষের নীচে তাঁর দেহ রেখে পুজো করেন। যমরাজ যখন সত্যবানের প্রাণ নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সাবিত্রী তাঁর পিছু নেন। সতীত্ব ও দৃঢ়তার কাছে নতি স্বীকার করে যমরাজ তাঁকে বর চাইতে বলেন। পরে সাবিত্রীর বুদ্ধি ও একাগ্রতার কাছে পরাজিত হয়ে যমরাজ সত্যবানের প্রাণ ফিরিয়ে দেন। সেই বিশ্বাস থেকেই আজও ভক্তিভরে পালিত হয় বট সাবিত্রী ব্রত।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande