
আগরতলা, ১৬ মে (হি.স.) : বন দফতরের অধীন দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের নোটিশকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শ্রমিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিকদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘ। সংগঠনের পক্ষ থেকে শুক্রবার চার দফা দাবিকে সামনে রেখে ত্রিপুরা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন (টিএফডিপিসি) কর্তৃপক্ষের কাছে একটি গণডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।
ডেপুটেশন জমা দেওয়ার আগে আগরতলার অরণ্যভবনের সামনে সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। হাতে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে উপস্থিত শ্রমিকরা ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁরা অবিলম্বে নোটিশ প্রত্যাহার এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দাবি তোলেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘের রাজ্য সভাপতি বাপন দত্ত। পরে তাঁর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল টিএফডিপিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত দাবিপত্র তুলে দেয়।
সংগঠনের অভিযোগ, সম্প্রতি টিএফডিপিসি বিভিন্ন সেন্টারে কর্মরত কিছু শ্রমিককে বাদ দেওয়ার জন্য একটি নোটিশ জারি করেছে। অথচ যেসব শ্রমিকের নাম ওই তালিকায় রয়েছে, তাদের অনেকেই গত ১০-২০ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আসছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমকে উপেক্ষা করে কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
ভারতীয় জনতা মজদুর সংঘের পক্ষ থেকে উত্থাপিত চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— কোনও কারণ দর্শানো ছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। যদি কোনও শ্রমিককে ছাঁটাই করতেই হয়, তবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে তার বাৎসরিক আয়ের ২৫ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। অযোগ্য ও বয়স্ক কর্মচারীদের পরিবর্তে শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ করে দিতে হবে।
বাপন দত্ত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা বন দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন, তাঁদের একতরফাভাবে বাদ দেওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সংগঠন সবসময় সোচ্চার থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত এই দাবিগুলির প্রতি ইতিবাচক পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে সংগঠন।
এই ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বহু শ্রমিকের দাবি, এই কাজই তাঁদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। হঠাৎ ছাঁটাই হলে তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়বে। ফলে দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ