
নয়াদিল্লি, ১৯ মে (হি.স.) : ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য কেনা নতুন ১২টি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান সরবরাহের সময়সূচি নির্ধারণ করল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল)।
মঙ্গলবার সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, নতুন চুক্তির অধীনে প্রথম যুদ্ধবিমানটি ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া হবে। বাকি ১১টি যুদ্ধবিমান ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষে পর্যায়ক্রমে বায়ুসেনার বহরে অন্তর্ভুক্ত হবে।
এই যুদ্ধবিমানগুলি বায়ুসেনার হাতে পৌঁছলে দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গত কয়েক দশকে দুর্ঘটনা ও বিভিন্ন কারণে যে সংখ্যাগত ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই পূরণ হবে।
এইচএএল-এর চতুর্থ ত্রৈমাসিক আর্থিক পর্যালোচনা বৈঠকে সংস্থার আধিকারিকরা জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১২টি টুইন-ইঞ্জিন মাল্টিরোল সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এইচএএল-এর সঙ্গে প্রায় ১৩,৫০০ কোটি টাকার চুক্তি সই করেছিল।
এই যুদ্ধবিমানগুলিতে ৬২.৬ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে এবং মহারাষ্ট্রের নাসিক ডিভিশনে এগুলির নির্মাণকাজ চলছে। সংস্থার দাবি, এই প্রকল্প ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিকেও আরও শক্তিশালী করবে।
এইচএএল সূত্রে খবর, উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সময়মতো যুদ্ধবিমান সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংস্থা তাদের অ্যাসেম্বলি লাইনও পুনর্বিন্যাস করছে। বর্তমানে সুখোই-৩০ এমকেআই ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিমান বহরের অন্যতম প্রধান শক্তি।
বহুমুখী এই যুদ্ধবিমান আকাশযুদ্ধ, দূরপাল্লার হামলা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং নির্ভুল স্থল আক্রমণ চালাতে সক্ষম। নতুন এই যুদ্ধবিমানগুলিতে উন্নত অ্যাভিওনিক্স ব্যবস্থা থাকবে এবং দেশীয় ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল বহন করার ক্ষমতাও থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য