শহরাঞ্চলে সৌরশক্তির প্রসারে জোর, হাই মাস্ট বসানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
আগরতলা, ১৯ মে (হি.স.) : রাজ্যের শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ, সৌরবিদ্যুতের প্রসার এবং পানীয়জল পরিষেবা উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক স
পর্যালোচনা বৈঠক


আগরতলা, ১৯ মে (হি.স.) : রাজ্যের শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ, সৌরবিদ্যুতের প্রসার এবং পানীয়জল পরিষেবা উন্নয়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে মঙ্গলবার উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার সভাপতিত্বে টিআইএফটি-র কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই বৈঠকে আগরতলা পুরনিগম সহ বিভিন্ন শহর এলাকার বিদ্যুৎ ও পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দফতরের চলমান প্রকল্পগুলি খতিয়ে দেখা হয়।

সভায় মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেন, সমস্ত প্রকল্পের কাজ গুণগতমান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। একইসঙ্গে আগরতলা শহরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি করে উৎসাহিত করার উপর জোর দেন তিনি। শহরাঞ্চলের যেসব এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে সেখানে সোলার হাই মাস্ট স্থাপনের পরামর্শও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ, মুখ্যসচিব জেকে সিনহা, সচিব অভিষেক সিং সহ বিদ্যুৎ, পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দফতর বিভিন্ন পদস্থ আধিকারিক।

সভায় টিএসইসিএল-এর প্রতিনিধিরা জানান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (এডিবি)-এর অর্থ সহায়তায় ২০২৩ সাল থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ২৭টি ৩৩ কেভি সাব-স্টেশন এবং ১১ কেভি রিং মেইন ইউনিট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মাটির নীচে ১৫৬ কিলোমিটার বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন, ৫৪০ কিলোমিটার কভার্ড কনডাক্টর এবং ৩৪৭ কিলোমিটার এলটি এবি ক্যাবল বসানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রকল্পগুলিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা।

আগরতলা শহরের বিদ্যুৎ পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন করতে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন, স্মার্ট গ্রিড কন্ট্রোল সেন্টার এবং নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

স্মার্ট মিটার স্থাপন নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এডিবি-র অর্থে আগরতলা পুর নিগম এলাকায় ১ লক্ষ ২০ হাজার এবং মোহনপুর পুর পরিষদ এলাকায় ৩০ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ চলছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া আরডিএসএস স্কিমের আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন শহর এলাকায় আরও প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজও চলছে।

টিএসইসিএল-এর প্রতিনিধিরা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনার আওতায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের আটটি জেলার জেলাশাসকের কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ জানান, এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত শহরাঞ্চলে ২ হাজার ৮৪৫টি সোলার ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে এবং ভর্তুকি বাবদ ৫৩ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের প্রায় ১৫ লক্ষ বাড়িতে সৌর প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ত্রিপুরা পাওয়ার ট্রান্সমিশন লিমিটেড (টিপিটিএল)-এর প্রতিনিধিরা সভায় জানান, স্পেশাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু স্টেট ফর ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট (এসএএসসিআই) প্রকল্পের আওতায় লাইভ লাইন টেকনিক ও ড্রোন মনিটরিং সিস্টেম চালুর মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বজ্রপাতের হাত থেকে বিদ্যুৎ পরিবাহী লাইন ও ট্রান্সফরমার রক্ষার জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ৭৯ টিলা ডিভিশনের অধীন সমস্ত পুরনো ট্রান্সফরমার বদলানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

সভায় ট্রেডা-র প্রতিনিধিরা জানান, প্রধানমন্ত্রী কুসুম প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের দুর্গম এলাকায় এখন পর্যন্ত ২৭৫টি সোলার মাইক্রো গ্রিড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে ৬৩টি সোলার হাই মাস্ট বসানো হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও ১৫০টি হাই মাস্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি ও জলসেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে রাজ্যে প্রায় ৮ হাজার ৪০০টি সোলার পাম্প বসানো হয়েছে। এছাড়াও ১৩০টি পানীয়জল প্রকল্পকে সৌরশক্তির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী সভায় মাতাবাড়িতে বিকল্প বিদ্যুতের উৎস হিসেবে সৌর প্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দফতরের প্রতিনিধিরা জানান, অমরুত ২.০ প্রকল্পের আওতায় পানিসাগর, কমলপুর, বিশালগড়, সোনামুড়া, জিরানীয়া, তেলিয়ামুড়া, শান্তিরবাজার এবং সাব্রুমে নতুন পানীয়জল উৎস গড়ে তোলার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত পানীয়জল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande