
নয়াদিল্লি, ২ মে (হি.স.): পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের মধ্যেও দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার সরকার জানিয়েছে, এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়ার কোনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি এবং গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রক (মিনিস্ট্রি অফ এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স) খাড়ি ও পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গতকাল অনলাইনে গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং বেড়ে ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে এবং ওটিপি-ভিত্তিক ডেলিভারি ৯৪ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫.৯৬ লক্ষ পিএনজি গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত ২.৬৮ লক্ষ সংযোগের জন্য পরিকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬.৬৬ লক্ষ গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য নথিভুক্ত হয়েছেন।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ৯ এপ্রিল ২০২৬ থেকে মুম্বই, কোচি, বিশাখাপত্তনম, চেন্নাই, মথুরা এবং গুজরাটের রিফাইনারিগুলি রাসায়নিক, ওষুধ ও রং শিল্পে ১০,০০০ মেট্রিক টনের বেশি প্রোপিলিন এবং ১২০০ মেট্রিক টনের বেশি বিউটাইল অ্যাক্রিলেট বিক্রি করেছে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত ২,৯২২ জনেরও বেশি ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় খাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩০ জন নাবিক ফিরেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, গুজব থেকে সতর্ক থাকতে হবে এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের উপর নির্ভর করতে হবে। এলপিজি গ্রাহকদের ডিজিটাল বুকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে এবং ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পিএনজি এবং বৈদ্যুতিক বা ইন্ডাকশন কুকটপ ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
মন্ত্রকের বক্তব্য, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও গৃহস্থালি এলপিজি, পিএনজি এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে সিএনজির শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলপিজির ক্ষেত্রে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফার্মা, ইস্পাত, অটোমোবাইল, বীজ ও কৃষি খাতেও সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ৫ কেজি এফটিএল সিলিন্ডারের সরবরাহ ২ ও ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে গড় দৈনিক সরবরাহের ভিত্তিতে দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরবরাহ ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রিফাইনারির উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, শহরাঞ্চলে বুকিং ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিন পর্যন্ত করা, এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহে অগ্রাধিকার নির্ধারণ।
এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের দৈনন্দিন ব্যবহারে শক্তি সাশ্রয়ের উপর জোর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য