পেট্রোল-ডিজেল সংকট নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নিশানা গেহলটের
জয়পুর, ২৬ মে (হি.স.) : পেট্রোল, ডিজেল এবং সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি স্পষ্ট করা
পেট্রোল-ডিজেল সংকট নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নিশানা গেহলটের


জয়পুর, ২৬ মে (হি.স.) : পেট্রোল, ডিজেল এবং সিএনজির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি স্পষ্ট করার বদলে সরকার ‘তামাশা’ করছে, আর সাধারণ মানুষ মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির অভা‍বের সম্মুখীন হচ্ছেন।

গেহলট বলেন, বিরোধীরা বারবার সরকারের কাছে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করার দাবি জানিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে যদি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি হয়ে থাকে বা সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে তা স্পষ্টভাবে জনগণকে জানানো উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, মানুষ পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম, তাই সরকারের উচিত সত্যিটা সামনে আনা। তিনি বলেন, বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী-ও একই দাবি তুলেছেন। কোনও বাধ্যবাধকতা থাকলে সরকারকে তা খোলাখুলি স্বীকার করার পরামর্শ দেন গেহলট।

এদিন বিজেপি শাসিত রাজ্য রাজস্থানের নেতা-মন্ত্রীরাও তাঁর সমালোচনার নিশানায় ছিলেন। গেহলটের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পর বিজেপি নেতারা রিকশা, পায়ে হাঁটা কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়িতে যাতায়াত করে শুধুই লোকদেখানো রাজনীতি করেছেন। এতে সাধারণ মানুষের কাছে কোনও ইতিবাচক বার্তা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন গেহলট। তাঁর কথায়, মানুষ আশঙ্কা করছেন পরদিন আবার দাম বাড়তে পারে। সেই কারণেই বহু জায়গায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াতকারীদের পথে একাধিকবার জ্বালানি ভরতে হচ্ছে। কোটা, জয়পুর, যোধপুর কিংবা ভরতপুর থেকে যাতায়াত করা বহু মানুষ অভিযোগ করছেন, এক হাজার টাকার পেট্রোলেও পুরো যাত্রাপথ শেষ করা যাচ্ছে না। গেহলট বলেন, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি অস্বীকার করছে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষ জ্বালানির সঙ্কটে ভুগলেও সরকার দাবি করছে, কোনও সমস্যা নেই।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গ্রামীণ এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ আসছে। অনেক গ্রামে ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত রান্নার গ্যাস মিলছে না বলেও জানান তিনি। লোহাওয়াত ও ওসিয়ান-সহ একাধিক এলাকার উদাহরণ তুলে ধরে গেহলট বলেন, এলপিজি এজেন্সির কর্মীরাও চাপে রয়েছেন, কারণ তাঁদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই। কেন্দ্র সরকার যদি আগেই পরিস্থিতি পরিষ্কার করত, তাহলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ অনেকটাই কমানো যেত। বর্তমানে পেট্রোল পাম্প মালিক এবং এলপিজি পরিবেশকদের জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে, অথচ এর আসল দায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বলেই অভিযোগ তাঁর।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস




 

 rajesh pande