বৃষ্টির জলে বেরিয়ে এল দুর্নীতির চেহারা! শান্তিরবাজারে নিম্নমানের নির্মাণ ঘিরে তোলপাড়
শান্তিরবাজার (ত্রিপুরা), ২৭ মে (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের সামনে বন দফতরের জমিতে শান্তিরবাজার পুর পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত টিফিন স্টল ও ঔষধের দোকান ঘিরে উঠেছে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ। লক্ষ লক্ষ টাকার উন্নয়নের নামে নিম্
ভেঙে পড়ল স্টল


শান্তিরবাজার (ত্রিপুরা), ২৭ মে (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের সামনে বন দফতরের জমিতে শান্তিরবাজার পুর পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত টিফিন স্টল ও ঔষধের দোকান ঘিরে উঠেছে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ। লক্ষ লক্ষ টাকার উন্নয়নের নামে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, অবৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং বনভূমিতে বেআইনি নির্মাণ—সব মিলিয়ে এখন তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে গোটা শহরে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের সামনে বন দফতরের অধীনস্থ জমিতে একাধিক স্টল নির্মাণের কাজ চলছে। কয়েকটি স্টলের কাজ ইতিমধ্যেই শেষের পথে, বাকিগুলোর কাজও দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্মাণ কাজে ছিল চরম অনিয়ম। এই কাজের মান এতটাই নিম্নস্তরের যে সামান্য বৃষ্টিতেই নবনির্মিত একটি স্টলের অংশ ভেঙে পড়ে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, “যে স্টল কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না, সেখানে ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীরা কীভাবে নিরাপদে বসবেন?”

এই গোটা প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন শান্তিরবাজার পুর পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার অতিন্দ্র রিয়াং। স্টল ভেঙে পড়ার পর থেকেই তাঁর ভূমিকা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একের পর এক প্রশ্ন। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই নিম্নমানের নির্মাণকাজে চোখ বুজে থেকেছেন সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার। অর্থ লুটের লক্ষ্যে সরকারি প্রকল্পকে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

ঘটনার পর শান্তিরবাজারের যুবক মিঠুন নমঃ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, “বাঁকা পথে অর্থ উপার্জনের নেশায় নিম্নমানের কাজ করছে ঠিকাদাররা। আর সেই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার।” তাঁর এই পোস্ট ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, “জনগণের টাকায় তৈরি প্রকল্পে যদি এমন দুর্নীতি হয়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে জমি নিয়ে। বন দফতরের জায়গায় কীভাবে পুর পরিষদ বাণিজ্যিক স্টল নির্মাণের অনুমতি পেল? আদৌ কোনও বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বন দফতরের কিছু অসাধু আধিকারিকের মদতেই এই নির্মাণকাজ চলছে। দক্ষিণ জেলার বন আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। দুর্নীতির বিনিময়ে কি বনভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে? উত্তর চাইছে শান্তিরবাজারবাসী।

এলাকাবাসীর দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। নিম্নমানের কাজ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং বনভূমিতে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে যারা জড়িত—সেই ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে জোরালোভাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande