
নয়া দিল্লি , ৩০ মে(হি.স.) : লিওনেল স্কালোনির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা হয়েছে। সেই দলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা লিওনেল মেসি আবারও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক জয়ের পর, এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে বিশ্বখেতাব ধরে রাখার মিশনে আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দেবেন এই ফুটবল জাদুকর।
তবে এবার বিশ্বকাপটি ধরে রাখার মিশনে মেসি যেমন নামছেন তেমনি এই টুর্নামেন্টে মাঠে নামার সঙ্গেই তিনি গড়তে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার, অংশগ্রহণের এক অবিশ্বাস্য ঐতিহাসিক রেকর্ড।
২০০৬ সালে জার্মানির মাটিতে মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে কাতার জয়—সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। ২০২৬ আসরটি হতে যাচ্ছে মেসির কেরিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।
ফুটবল ইতিহাসে এর আগে লোথার মাথেউস, আন্তোনিও কারবাহাল, রাফা মারকেস এবং আন্দ্রেস গুয়ারদাদোর ৫টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড ছিল, যা গত বিশ্বকাপে মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো স্পর্শ করেছিলেন। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নেমে মেসি এবং রোনাল্ডো হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের প্রথম দুই ফুটবলার, যাঁরা টানা দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে নিজেদের টিকিয়ে রেখে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়তে চলেছেন।
অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারই কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে কেবল একটি ‘বিদায়ী ম্যাচ’ খেলতে নামেন। কিন্তু ৩৮ বছর বয়সী মেসির ক্ষেত্রে প্রেক্ষাপটটা একেবারেই আলাদা। তিনি কোনও বিদায়ী ম্যাচ বা টুর্নামেন্ট খেলতে এই বিশ্ব কাপে আসছেন না,তিনি আসছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের সেনাপতি ও মূল কাণ্ডারি হিসেবে।
এর পাশাপাশি ঐতিহাসিক রেকর্ডগুলোও তিনি আরও সমৃদ্ধ করবেন। কারণ কাতার বিশ্বকাপেই মেসি অসংখ্য রেকর্ড নিজের নামে করেছিলেন, যা ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এই ফুটবলের জাদুকর।
সেগুলো কী কী:
**সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও মিনিট খেলার রেকর্ড:
কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজের ২৬তম ম্যাচটি খেলে জার্মানির লোথার মাথেউসকে (২৫ ম্যাচ) টপকে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন মেসি। এছাড়া ২,৩১৪ মিনিট মাঠে থেকে পাওলো মালদিনির রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় খেলার কীর্তিও তাঁর। আসন্ন টুর্নামেন্টে প্রতিটি ম্যাচ খেলার সঙ্গে সঙ্গে এই দুটি রেকর্ড আরও অনেক অনেক দূর চলে যাবে।
**অধিনায়কত্বের রেকর্ড:
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার রেকর্ডটি ইতিমধ্যেই মেসির দখলে। বিভিন্ন প্রজন্ম ও কোচের অধীনে খেললেও, স্কালোনির এই অপরাজেয় দলের নেতা হিসেবে তাঁর অবস্থান এখন অনন্য উচ্চতায়। সেই উচ্চতাটা আরো অনেক বাড়বে।
**গোলদাতার মাইলফলক:
বিশ্বকাপে ১৩টি গোল করে মেসি ইতিমধ্যেই গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে (১০ গোল) ছাড়িয়ে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়েছেন। এবার বিশ্বকাপে তাঁর সামনে সুযোগ থাকবে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার করা সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডটি স্পর্শ করার বা ছাড়িয়ে যাওয়ার।
**লক্ষ্য ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করা:
বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি রয়েছে কেবল দুটি দেশের—ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২)। স্কালোনির অধীনে মেসির আর্জেন্টিনা যদি এই বিশ্বকাপ জিততে পারে তাহলে সেটাও একটা রেকর্ড হবে। এখন একটি সুসংগঠিত, শক্তিশালী এবং আবেগীয় বন্ধনে আবদ্ধ মেসির আর্জেন্টিনা তা পারে কিনা সেটাও দেখার।
হিন্দুস্থান সমাচার / শান্তি রায়চৌধুরি