
কলকাতা, ৩১ মে (হি. স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই ঘটনায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে হামলার তীব্র নিন্দা করেন। এরপর রাহুল গান্ধীর সমর্থনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে রবিবার দীর্ঘ বার্তা প্রকাশ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, একজন নির্বাচিত সাংসদের উপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তির উপর আক্রমণ নয়, এটি তাঁকে নির্বাচিত করা জনগণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপরও আঘাত। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও হিংসার কারণ হতে পারে না। পাশাপাশি তিনি কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত আরোগ্যও কামনা করেন তিনি।
রাহুল গান্ধীর এই বার্তার জবাবে রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “রাহুল জি, আপনার উদ্বেগ এবং অবিচল সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। ভারতের আত্মাকে রক্ষা করা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে সুরক্ষিত রাখা এবং সংবিধানে নিহিত মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখার লড়াইয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি পাঁচটি দেশ সফর করেছিলেন। সেই সফরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছিলেন।
অভিষেক লেখেন, “আমি আমার দেশের হয়ে কথা বলেছি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একজোট থেকেছি। অথচ আজ আমি রাজনৈতিক হিংসার এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসের শিকার, যা ঘটাচ্ছেন তাঁরাই, যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করেন।”
বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আজকের বিজেপির বাস্তবতা হল—আপনি যদি তাদের সমর্থন করেন, তাহলে আপনি দেশপ্রেমিক। আপনি যদি তাদের প্রশ্ন করেন, তাহলে আপনি নিশানায় পরিণত হন। আপনি যদি তাদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে আপনাকে সম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু আপনি যদি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তাহলে আপনাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “নিজের নীতি ও আদর্শ বিসর্জন দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনযাপন করার চেয়ে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকির মুখোমুখি হওয়া আমার কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু জনগণের ইচ্ছা স্থায়ী। আমি শুধুমাত্র জনগণের কাছেই মাথা নত করব, ক্ষমতাসীনদের কাছে নয়।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও দাবি করেন, গণতন্ত্রকে দুর্বল করা এবং দেশকে বিভক্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “ভারত ঐক্যবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে ভয়, ঘৃণা, হিংসা এবং ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতিকে পরাজিত করব। শেষ পর্যন্ত মানুষের কণ্ঠস্বরই জয়ী হবে।”
উল্লেখ্য, নির্বাচনী-পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য