ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য, জ্বলন্ত মশাল দিয়ে হাতি ‘রামলাল’-কে উত্যক্তের অভিযোগ
ঝাড়গ্রাম, ৩১ মে (হি.স.) : নানা সচেতনতামূলক প্রচার ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও হাতি নিয়ে মানুষের একাংশের বেপরোয়া আচরণ থামছে না। বনদফতর বারবার হাতির কাছাকাছি না যাওয়া, তাদের বিরক্ত না করা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিলেও বাস্তবে তার উল্টো চ
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে চাঞ্চল্য, জ্বলন্ত মশাল দিয়ে হাতি ‘রামলাল’-কে উত্যক্তের অভিযোগ


ঝাড়গ্রাম, ৩১ মে (হি.স.) : নানা সচেতনতামূলক প্রচার ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও হাতি নিয়ে মানুষের একাংশের বেপরোয়া আচরণ থামছে না। বনদফতর বারবার হাতির কাছাকাছি না যাওয়া, তাদের বিরক্ত না করা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্রই সামনে আসছে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি, তবুও তাতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি হাতে জ্বলন্ত মশাল নিয়ে জঙ্গলমহলের পরিচিত হাতি ‘রামলাল’-কে বারবার ছ্যাঁকা দিচ্ছেন। যন্ত্রণায় ক্ষুব্ধ হাতিটি বারবার পা তুলে তেড়ে আসার চেষ্টা করছে বলেও ভিডিওতে ধরা পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই বন্যপ্রাণীর প্রতি মানুষের আচরণ নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় একটি অন্তঃসত্ত্বা হাতিকে জ্বলন্ত লোহার শলাকা দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছিল। গুরুতর জখম অবস্থায় হাতিটিকে ছুটে বেড়াতে দেখা যায়। পরে তার মৃত্যু হয়। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা। এর মধ্যেই নতুন এই ভিডিও সামনে আসায় বনপ্রাণীপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

রবিবার বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের কোনও একটি এলাকার বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি বনদফতরের কোনও আধিকারিক।

প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রাম ও সংলগ্ন জঙ্গলমহল এলাকায় মানুষ-হাতি সংঘাত দীর্ঘদিনের সমস্যা। হাতির চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করা, তাদের উত্ত্যক্ত করা কিংবা খুব কাছ থেকে ছবি ও ভিডিও তোলার প্রবণতা বহুবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বনদফতর এবং হাতি সংরক্ষণে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিতভাবে প্রচার চালিয়ে মানুষকে সতর্ক করে আসছে। বিশেষ করে হাতির গতিপথে বাধা না দেওয়া, খুব ভোর বা সন্ধ্যার পরে জঙ্গলপথ এড়িয়ে চলা এবং বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবুও বারবার দেখা যাচ্ছে, সচেতনতার বার্তা উপেক্ষা করে অনেকে হাতির খুব কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও তোলার চেষ্টা করছেন, এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বিরক্তও করছেন। বন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আচরণ শুধু বন্যপ্রাণীর জন্যই নয়, মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার পক্ষেও বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande