ভাঙা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত, ক্ষোভে ফুঁসছেন পুটিয়াবিল পাড়ার বাসিন্দারা
আগরতলা, ৩১ মে (হি.স.) : দীর্ঘ বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকা একটি ব্রিজ এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেলে পড়া মরচেধরা লোহার চ্যানেলের উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। সিমনা এলাকার ব্রহ্মকুণ্ড গ্রাম পঞ্চায়
মরণফাঁদে পরিণত ব্রিজ


আগরতলা, ৩১ মে (হি.স.) : দীর্ঘ বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকা একটি ব্রিজ এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেলে পড়া মরচেধরা লোহার চ্যানেলের উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামবাসীরা। সিমনা এলাকার ব্রহ্মকুণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন পুটিয়াবিল পাড়ায় ব্রিজ মেরামত বা নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনগণের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ভেঙে পড়ে থাকায় এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বহু বছর আগে প্রবল বর্ষণে ছড়ার উপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটি ভেসে যায়। পরবর্তীতে গ্রামবাসীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্রহ্মকুণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত ভাঙা ব্রিজের স্থানে কয়েকটি লোহার চ্যানেল বসিয়ে দেয়। কিন্তু বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টি ও অবহেলায় সেই চ্যানেলগুলো মরচে ধরে এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

গ্রামবাসীদের দাবি, এই চ্যানেলের উপর দিয়ে ছড়া পারাপার করতে গিয়ে ইতিমধ্যে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বহু গবাদি পশুও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। তবুও স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীরা জানান, বহুবার পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিলেও ভোট শেষ হলেই সেই প্রতিশ্রুতি বিস্মৃত হয়ে যায়। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

রবিবার পুটিয়াবিল পাড়ার জনৈক বাসিন্দা জানান, “লোহার চ্যানেলের উপর দিয়ে চলাফেরা করা অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলাদের জন্য সমস্যা আরও বেশি। আমরা বারবার ব্রিজের দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “এই অবস্থায় বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে?”

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পথ দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল কার্যত অসম্ভব। ফলে গ্রামের যুবকদের বাইক নিয়ে সুন্দরটিলা ও ব্রহ্মকুণ্ড হয়ে দীর্ঘ ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অথচ পুটিয়াবিল পাড়ার এই পথটি ব্যবহার করলে সহজেই কাতলামারা, পঞ্চবটি, শ্যামপাড়া-সহ একাধিক এলাকায় পৌঁছানো যায়। কিন্তু ব্রিজ ভেঙে থাকায় এলাকার মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

এদিকে বর্ষাকাল ঘনিয়ে আসায় গ্রামবাসীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ চ্যানেল দিয়ে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। তাই অবিলম্বে নতুন ব্রিজ নির্মাণ অথবা জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পুটিয়াবিল পাড়ার বাসিন্দারা। এলাকাবাসীদের বক্তব্য, প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande