
আগরতলা, ৩১ মে (হি.স.) : ত্রিপুরায় দুধ ও মাছের ক্রমবর্ধমান চাহিদার তুলনায় উৎপাদন এখনও পর্যাপ্ত নয়। এই ঘাটতি দূর করতে উৎপাদন বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ বিকাশ ও মৎস্য দফতরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। রবিবার রাজধানী আগরতলায় একটি বেসরকারি হোটেলে অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা পশু চিকিৎসক সমিতির বার্ষিক সাধারণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
রাজ্যের প্রাণী সম্পদ ও মৎস্য দফতরের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় উপস্থিত ছিলেন দফতরের সচিব দীপা ডি নায়ার, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা বিমল কৃষ্ণ দাসসহ দফতরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও পশু চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানের সূচনায় মন্ত্রী সুধাংশু দাস প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, এদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের সম্প্রচার শোনার মধ্য দিয়েই সাধারণসভার কার্যক্রম শুরু হয়।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী ত্রিপুরা পশু চিকিৎসক সমিতির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পশুপালন, প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সমিতির সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করছেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে দুধ ও মাছের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে উৎপাদন সেই হারে বাড়েনি। ফলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে একটি ব্যবধান রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পশুপালন, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষের ওপর আরও জোর দিতে হবে।
তিনি পশু চিকিৎসক সমিতির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। খামারিদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রদান, উন্নত জাতের পশুপালন এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। একইভাবে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
আগামী দিনে ত্রিপুরা পশু চিকিৎসক সমিতি এবং প্রাণী সম্পদ ও মৎস্য দফতর যৌথভাবে কাজ করে রাজ্যের দুধ ও মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বলে আশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাজ্যের প্রাণী সম্পদ ও মৎস্য খাতকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
সাধারণসভায় রাজ্যের প্রাণী সম্পদ ও মৎস্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপস্থিত কর্মকর্তারা খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন। সভায় অংশগ্রহণকারী পশু চিকিৎসকরাও মাঠপর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ