
কলকাতা ও বারাসত, ৭ মে (হি.স.) : ফোনে বিজেপি নেতা তথা বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে কথা বলার মাঝেই আততায়ীদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী তথা আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্তম্ভিত শঙ্কর ঘোষ জানান, বুধবার রাত ১০টা নাগাদ তিনি উল্টোডাঙা থেকে ফেরার পথে চন্দ্রনাথের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। আলোচনায় ছিল শনিবারে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সফর ও শপথগ্রহণের প্রস্তুতি। কথা চলাকালীন হঠাৎই ওপাশ থেকে গোঙানির শব্দ আর অস্পষ্ট আওয়াজ ভেসে আসে। শঙ্কর বারবার চিৎকার করে চন্দ্রনাথকে ডাকলেও ওপাশ থেকে আর কোনও সাড়া মেলেনি। উদ্বেগে মেসেজ করেন— 'কীরে ঠিক আছিস তো?'। পরে পুনরায় ফোন করলে এক অপরিচিত ব্যক্তি ফোন ধরে জানান যে চন্দ্রনাথ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বিজেপির দাবি, এই পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ যখন ফিরছিলেন, তখনই গাড়ি আটকে তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে হাড়হিম করা ছবি। কেউ একজন কুকুরকে খাওয়াচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় মুহুর্মুহু গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। বুলেটের সামনে চালক আহত হয়েও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
রাত ২টো নাগাদ মধ্যমগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালের ওয়েটিং লাউঞ্জে বিধ্বস্ত অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায় শঙ্কর ঘোষকে। তিনি বলেন, “আমাদের বিধানসভায় যতজন বিধায়ক ছিলেন, সবার খুব ঘনিষ্ঠ ছিল চন্দ্রনাথ। ও শুভেন্দু দা’র দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী। আমার আর কিছু বলার ভাষা নেই।”
বৃহস্পতিবার বারাসত মেডিক্যালে চন্দ্রনাথের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁর মরদেহ পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চণ্ডীপুরের ভূমিপুত্রের এই নৃশংস মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি