
ফটিকরায় (ত্রিপুরা), ৭ মে (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার ফটিকরায় বিধানসভা এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করতে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়াল রাজ্য সরকার। চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ফটিকরায়ের আম্বেদকর কলেজের প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত হয় পর্যালোচনা বৈঠক। বৈঠকের নেতৃত্ব দেন ত্রিপুরা সরকারের মন্ত্রী তথা এলাকার বিধায়ক সুধাংশু দাস।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জেলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, কুমারঘাট পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপার্সন সুমতি দাস, ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক ডঃ তমাল মজুমদার সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক, বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং পঞ্চায়েত সচিবরা। প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে ফটিকরায় বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল সংকট, বিদ্যুৎ পরিষেবার অনিয়মিত অবস্থা, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার, জনস্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস।
বৈঠকে বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন জনপ্রতিনিধিরা। পানীয় জল সরবরাহে ঘাটতি, ট্রান্সফরমারের সমস্যা, গ্রামীণ সড়কের বেহাল অবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ধীরগতির বিষয়গুলি নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী সুধাংশু দাস জানান, এলাকার উন্নয়নমূলক কাজগুলির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পগুলির কাজ সম্পন্ন করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “বিশেষ করে পানীয় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবার সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এই পরিষেবাগুলি সরাসরি জড়িত, তাই বিষয়গুলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা, নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং জনস্বার্থমূলক পরিষেবার সম্প্রসারণ নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ