
- শিলিগুড়ি-শিলচর করিডরের কাজ চলছে এগিয়ে
- শিলচর-শ্রীরামপুর যাত্রার সময় কমে সাত ঘণ্টা
গুয়াহাটি, ১৩ জুন (হি.স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্ৰ মোদীর আমলে গত এক দশকে অসমে মজবুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি হয়েছে, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ১২ বছর কার্যকালের পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ শনিবার গুয়াহাটির অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে বিশেষ মিডিয়া কনক্লেভে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে গত এক দশকে রাজ্যের উন্নয়নমূলক অগ্রগতি ও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড.শর্মা।
‘১২ বছরের বিশ্বাস, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ’ শীর্ষক কনক্লেভে অসমের ২৫টি নির্বাচিত সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিজেপির প্রদেশ সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, রজ্যের মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া প্রমুখদের উপস্থিতিতি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অসম ও উত্তরপূর্ব ভারতের প্রতি ধারাবাহিক আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদী ৩৬ বার অসম সফর করেছেন, যা ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে নজিরবিহীন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও মোদী অসমের বিভিন্ন জেলা সফর করেছেন। রাজ্যের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সমস্যাগুলি সম্পর্কে গভীর ধারণা তৈরি করেছিলেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ড. শর্মা বলেন, তিনি এমন প্রধানমন্ত্রী দেখেননি, যিনি অসমের উন্নয়ন নিয়ে এত বিস্তারিত জ্ঞান ও ধারাবাহিক আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও মোদী অসমের বিভিন্ন জেলা সফর করেছেন। রাজ্যের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সমস্যাগুলি সম্পর্কে গভীর ধারণা তাঁর তখন থেকেই ছিল।
রাজ্যের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অসম কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ১.৭ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এক দশকে কেন্দ্রীয় সহায়তার পরিমাণ ছিল ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকা।
সামাজিক সূচকের উন্নতির উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২-২৩ সালে অসমে প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে উঠে এসেছেন। তিনি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে জানান, তিনি যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি এক লক্ষ প্রসবে ৪৮০ থেকে এখন ৮৪-তে নেমে এসেছে।
ড. শর্মারও দাবি, অসমের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দেশের গড় বৃদ্ধির তুলনায় বেশি হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অসমের অর্থনীতি ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে দেশের সামগ্রিক বৃদ্ধি ছিল ২৯ শতাংশ।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে মুখ্যমন্ত্রী একাধিক প্রকল্পের কথা জানান। তিনি বলেন, শিলচর থেকে শ্রীরামপুর পর্যন্ত যাত্রার সময় কমে সাত ঘণ্টা হবে। শিলিগুড়ি-শিলচর করিডরের কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া বাইহাটা চারিয়ালি থেকে মিশন চারিয়ালি পর্যন্ত চার লেন সড়কের নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, নাগাঁও এবং মরিগাঁওকে ভুটানের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য জাগিরোড ও ওদালগুড়ির মাধ্যমে একটি নতুন জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী করতে সেতু নির্মাণও করা হবে।
সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় বিহু, বাগুরুম্বা ও ঝুমুরের মতো অসমের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক রূপগুলি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বেতার অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এও অসম বহুবার স্থান পেয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শর্মা বলেন, কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন রাজ্যে সীমান্ত বেড়া নির্মাণের কাজ ব্যাপক এগিয়েছে। তিনি জানান, অসমে কিছু অংশে আগে থেকেই বেড়া থাকলেও প্রতিবেশী রাজ্যগুলির বড় অংশ বহু বছর খোলা ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অসম চুক্তির প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্পগুলি নতুন গতি পেয়েছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একাধিক রাজ্যে বেড়া নির্মাণের কাজ চলছে।
সীমান্ত সুরক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অসমে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রসার, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি একে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে ড. শর্মা বলেন, অসমের উন্নয়নকে তার নিজস্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। শিল্পোন্নত রাজ্যগুলির সঙ্গে সরাসরি তুলনা না করেও অসম নিজের উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে বলে, বলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস