অসমে ১ জুলাই থেকে ২,০০০ কোটি টাকার ‘ভিবি-জি রাম জি’ প্রকল্প, সিলমোহর অসম মন্ত্রিসভায়
- অসমকে বাণিজ্য ও লজিস্টিকের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ার লক্ষ্য গুয়াহাটি, ১৩ জুন (হি.স.) : বিকশিত ভারত - গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫ (ভিবি-জি রাম জি) বাস্তবায়নের কাঠামো অনুমোদন করেছে অসম মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভায় অনুম
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য পেশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব


- অসমকে বাণিজ্য ও লজিস্টিকের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ার লক্ষ্য

গুয়াহাটি, ১৩ জুন (হি.স.) : বিকশিত ভারত - গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫ (ভিবি-জি রাম জি) বাস্তবায়নের কাঠামো অনুমোদন করেছে অসম মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের ফলে আগামী ১ জুলাই থেকে গোটা অসমে এই প্রকল্প চালু হবে। প্রকল্পের জন্য চলতি বছরে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, জানান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

আজ শনিবার গুয়াহাটিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা এ খবর জানান। তিনি জানান, নতুন কাঠামোর অধীনে প্রতিটি পরিবারকে বছরে ১২৫ দিনের নিশ্চিত মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে। এর আগে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এমজিএনরেগা)-এর অধীনে এই সুবিধা ছিল ৯০ দিন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রকল্পটি শুধু কর্মসংস্থানের ওপর নয়, জীবিকা সহায়তা এবং গ্রামীণ সম্পদ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেবে। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৫ সালে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন-এর পরিবর্তে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা ভিবি-জি রাম জি চালু করেছে। আগের আইনটি শুধুমাত্র গ্রামীণ কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিত। কিন্তু নতুন প্রকল্পে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সম্পদ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। ‘কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি এই আইন প্রতিটি গ্রামে স্থায়ী সম্পদ তৈরি করবে। ভিবি-জি রাম জি প্রকল্প আগামী ১ জুলাই থেকে অসমে শুরু হবে। এর জন্য এ বছর ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি পঞ্চায়েতের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে,’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পঞ্চায়েতগুলোর মাধ্যমে তৃণমূল স্তরের উন্নয়নমূলক কাজে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পঞ্চায়েতগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশিকা তৈরি করা হবে। স্কুলের সীমানা প্রাচীর, শ্মশান, গ্রামীণ রাস্তা ইত্যাদি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই প্রকল্প অসমের গ্রামীণ জীবিকা শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অসমের কৌশলগত অবস্থানের সুবিধা নিয়ে রাজ্যকে বাণিজ্য, লজিস্টিক ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্রহ্মপুত্রের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ব্যবহার এবং আঞ্চলিক সংহতির মাধ্যমে উত্তরপূর্ব ভারতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো অসমকে শুধু একটি যাতায়াতের পথ নয়, উৎপাদন, পরিষেবা, লজিস্টিক এবং বাণিজ্যের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।’ এই পরিকল্পনার অধীনে সড়ক, রেল, জলপথ, মাল্টিমোডাল লজিস্টিক ব্যবস্থা এবং সীমান্ত বাণিজ্য সংযোগ শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট নীতি’-তে অসমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আর্য নগরে সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য বেজায় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এ সম্পৰ্কে এক জিজ্ঞাসার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা পাল্টা অভিযোগ করেছেন, গুয়াহাটির আর্য নগরের ঘটনাকে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ককে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নলবাড়ি এনকাউন্টার এবং গোয়ালপাড়ার বিফ-টিফিন বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া যায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর্য নগরের ঘটনাটি প্রথমে অসমীয়া ও বিহারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হিসেবে আলোচনায় এলেও তদন্তে এটি অর্থ আদায় সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

নলবাড়ির ঘটনাটি ১ জুনের পুলিশ এনকাউন্টারের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে পুলিশের দাবি অনুযায়ী আশিক আলি ওরফে রোজ নিহত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এক তরুণীর ওপর হামলা এবং এক ছাত্রনেতার হত্যার অভিযোগ ছিল।

গোয়ালপাড়ার বিতর্কটি তৈরি হয়েছিল একটি সরকারি স্কুলে এক ছাত্রের টিফিন বাক্সে গোমাংস আনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ঘটনার পর পুলিশ ব্যবস্থা নেয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর্য নগরের ঘটনাকে ঘিরে প্রচার অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে দিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande