
কলকাতা, ১৩ জুন (হি. স.) : “কর্তব্যে ফাঁক থাকবে না। কিন্তু রাজনৈতিক অবস্থানে ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি নিজের সুবিধেমত বদল করতে পারছি না, করছি না। দেখি, সময় কী বলে।” শনিবার সামাজিক মাধ্যমে এই মন্তব্য করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
তিনি লিখেছেন, “চারপাশে বেশ একটা গেল গেল রব। রাজ্য সরকার উল্টেছে। দাপুটে দলটায় এমপি, এমএলএরা মহাবিপ্লবী। বহু এলাকায় জনপ্রতিনিধি, নেতাদের উপর হামলা, গ্রেপ্তার, ডিম, শ্লোগান দিয়ে রোষের মডেল। পুলিশ একেবারে সিংহম মোডে। আইন আইনের পথে চলুক। কিন্তু একটা পরিকল্পিত চিত্রনাট্যের হামলা, অরাজকতা, মানুষকে একতরফা নেতিবাচক প্রচারে দিনভর বিষ গিলতে বাধ্য করা, প্রভাবিত করা, সবটা ভালো হচ্ছে কি?
খারাপ অংশ একশবার খারাপ। সমালোচনা হোক। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগে করেছিলেন। আমিও করে সাসপেন্ড হয়েছি। কিন্তু যারা এতকাল সব পদ, ক্ষমতায় থাকলেন, আজ সরকার চলে যাওয়ার পর তারা বিদ্রোহী? এদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। বরং অনেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক। কিন্তু যে দল থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা, দল হারার পরই রাতারাতি বদল?? দলটাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা ছাড়াই? কর্মীদের সঙ্গে না থেকে??
খারাপ অংশ বাদ দিলেও ভালো কিছুই হয়নি?
বুকে হাত দিয়ে বলুন। মানুষ উপকার পাননি? এলাকার কাজ হয়নি? সব ভুলে যাবেন?? সব?? এতদিন দিদি, দিদি, দিদি, দিদি, যুবরাজ, যুবরাজ, বস্, বস্... রাতারাতি বদল???? আপনাদের স্তাবকতার ঠেলায় আসল কর্মীরা পিছিয়ে পড়েছেন, বঞ্চিত হয়েছেন। দলে ভুল ছিল। কিন্তু সেই ভুলের অনেক ফায়দা তো আপনারা অনেকে নিয়েছেন। তখন ভুলটাকে ভুল বলা যেত না???? আর আজ কঠিন সময়ে আপনারা সবার আগে পিঠ দেখাচ্ছেন?
অনেক পরিচিতর সঙ্গে কথা হচ্ছে। হয়ত অনেকে তৃণমূলের উপর বিরক্তও ছিলেন। কেউ কেউ বলছেন, এদের সঙ্গে আর থেকো না। নতুন হাওয়ায় চলো। বা, বসে যাও। কিন্তু, অনেকেই বলছেন, দল হেরেছে। চারপাশ বিধ্বস্ত। ঘরে বাইরে বম্বিং চলছে। এই সময় নেত্রীর পাশে থাকার যে অবস্থান নিয়েছো, তা সমর্থন করছি। হয়ত পরাজিতপক্ষে, তবু এই অবস্থান সঠিক।
অনেক পরিচিত, শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মীর কথায় আমি উৎসাহিত। দলে, দিদির সঙ্গে থাকব। দলে সংশোধনে সাহায্য করব। অপ্রিয় সত্য বলব। সহকর্মীদের আগলে রাখব আপ্রাণ। তাদের জন্য থানায় থানায় ঘুরছি, কথা বলছি, বলব ( নিশ্চিত আপত্তিকর কাজ ছাড়া)।
বিধায়ক হিসেবে মানুষের কাজ করছি। এলাকার উন্নয়ন ও বৃহত্তর কাজে মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, লিখেছি, বলব, লিখব, যাব।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত