বাঁকুড়া পুরপ্রধান অলকা সেন মজুমদারের পদত্যাগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে
বাঁকুড়া, ১৭ জুন (হি.স.): বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অলকা সেন মজুমদার। সোনামুখী পুরসভার পর এবার বাঁকুড়া পুরসভাতেও শাসকদলের বড় পরিবর্তন সামনে এল। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক কারণে তিনি ঘন
পদত্যাগ করলেন বাঁকুড়া পুরসভার পৌরপ্রধান অলকা সেন মজুমদার


বাঁকুড়া, ১৭ জুন (হি.স.): বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অলকা সেন মজুমদার। সোনামুখী পুরসভার পর এবার বাঁকুড়া পুরসভাতেও শাসকদলের বড় পরিবর্তন সামনে এল।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক কারণে তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন। সম্প্রতি পুরসভার উপ-পুরপ্রধান সহ চারজন সিআইসি-সহ মোট ১৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব তুলে জেলাশাসকের কাছে চিঠি দেন। পরে যদিও তাঁদের মধ্যে ১০ জন সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে জানা যায়। এরপর থেকেই পুরপ্রধানের পুরসভায় উপস্থিতি কমে যায়।

বুধবার বাঁকুড়া সদর মহকুমাশাসকের দফতরে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের পর অলকা সেন মজুমদার জানান, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিল তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে দল যে দায়িত্ব দেবে, তা তিনি পালন করবেন বলেও মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ড গঠনের পর অলকা সেন মজুমদার বাঁকুড়া পুরসভার পুরপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে গত কয়েক বছরে পুরসভাকে ঘিরে একাধিক প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ মতভেদ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে অসন্তোষ এবং দলীয় কোন্দল একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছে।

দলীয় সূত্রে দাবি, সম্প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব আনেন তৃণমূলেরই ১৬ জন কাউন্সিলর। তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে পুরপ্রধান দলের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন এবং একাংশের দাবি অনুযায়ী, তিনি বিজেপির প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন—যদিও এই অভিযোগের কোনও স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। পরে অবশ্য ১০ জন কাউন্সিলর তাঁদের স্বাক্ষর প্রত্যাহার করেন।

২৪ সদস্যের বাঁকুড়া পুরসভায় তৃণমূলের ২১ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। বাকি ৩ জন নির্দল কাউন্সিলরের মধ্যে পরবর্তীতে ২ জন তৃণমূলে যোগ দেন বলেও জানা যায়।

উল্লেখ্য, এর আগে সোনামুখী পুরসভার পুরপ্রধান সন্তোষ মুখোপাধ্যায়ও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। একের পর এক পুরপ্রধানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা ও চাপানউতোর তৈরি হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট




 

 rajesh pande