
দার্জিলিং, ১৭ জুন (হি.স.) : গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (জিটিএ) ইস্তফার হিড়িক পড়ে গেছে। বুধবার সকালে জিটিএ প্রধান অনিত থাপার পদত্যাগের পর এবার পাহাড়ের রাজনীতিতে আরও বড় ধাক্কা লাগল। অনিত থাপার পথ অনুসরণ করে এবার জিটিএ-র ডেপুটি চেয়ারম্যান সাঞ্চবীর সুব্বাও নিজের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি কার্শিয়াং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনু ছেত্রীও তাঁর পদ ছেড়ে দিয়েছেন। এই একের পর এক হেভিওয়েট ইস্তফার জেরে পাহাড়ের রাজনৈতিক অলিন্দে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
নিজের পদত্যাগ প্রসঙ্গে কার্শিয়াং পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী অনু ছেত্রী জানান, রাজ্যের নতুন সরকারের ওপর পাহাড়ের মানুষের গভীর ভরসা রয়েছে। সকলেই আশা করছেন যে, এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মাধ্যমেই পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে। তিনি নিজেও পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান চান এবং সেই কারণেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে অনিত থাপাও তাঁর ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রায় একই সুর চড়িয়েছিলেন।
থাপা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, জিটিএ কাঠামো বহাল রেখে পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোনওভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের মানুষ যেভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ঢেলে সমর্থন করেছেন, তা থেকেই পরিষ্কার যে জনতা এবার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান চাইছে।
অনিত থাপা আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পাহাড়ের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত রাজনৈতিক সমস্যাগুলিই তাঁদের এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ। জিটিএ-র প্রশাসনিক গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁরা এবার পাহাড়ের স্থায়ী ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে নতুন পথ তৈরি করতে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জিটিএ এবং পঞ্চায়েত স্তরের এই শীর্ষনেতাদের ইস্তফা পাহাড়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি