পূর্ব আগরতলা থানায় নির্যাতন মামলায় এসআই-কে সাসপেন্ডের নির্দেশ হাইকোর্টের
আগরতলা, ১৭ জুন (হি.স.) : আহরতলায় বনমালীপুরের বাসিন্দা সৈকত সাহাকে পূর্ব আগরতলা থানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের মামলায় বুধবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর রিপোর্
ত্রিপুরা হাইকোর্ট


আগরতলা, ১৭ জুন (হি.স.) : আহরতলায় বনমালীপুরের বাসিন্দা সৈকত সাহাকে পূর্ব আগরতলা থানায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের মামলায় বুধবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর রিপোর্টে থানার ভেতরে সৈকত সাহার উপর নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা উঠে আসার পর জনৈক মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র দফতরের একজন আন্ডার সেক্রেটারি এবং আরও এক সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বুধবার প্রধান বিচারপতি এমএস রামচন্দ্র রাও এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ পালিতের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার আংশিক শুনানি হয়। আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ অনুযায়ী এদিন এসআইটি তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, সৈকত সাহাকে পূর্ব আগরতলা থানার ভেতরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।

তবে এর আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র দফতরের একজন আন্ডার সেক্রেটারি আদালতে একটি হলফনামা জমা দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, সৈকত সাহার উপর কোনও ধরনের অত্যাচার করা হয়নি। এসআইটি রিপোর্টে তার বিপরীত তথ্য উঠে আসায় আদালত ওই হলফনামা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত নির্দেশ দেয়, সংশ্লিষ্ট আন্ডার সেক্রেটারি ভবিষ্যতে এই মামলায় আর কোনও হলফনামা জমা দিতে পারবেন না। পাশাপাশি আদালতকে বিভ্রান্ত করার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেয়।

এদিন আগরতলা পুর নিগমের এক সহকারী কমিশনারের জমা দেওয়া রিপোর্ট নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতিরা মন্তব্য করেন, রিপোর্টে বাস্তব তথ্যের প্রতিফলন নেই এবং তা বিভ্রান্তিকর। ফলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।

মামলার তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সৈকত সাহাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের অভিযোগে পূর্ব আগরতলা থানার জনৈক মহিলা এসআই-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ২৩ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

এদিন সৈকত সাহার পক্ষে আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নির্দেশে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে এবং নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, বনমালীপুর এলাকায় নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিলেন সৈকত সাহা। অভিযোগ, আগরতলা পুর নিগমের টাস্ক ফোর্সের কর্মী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ গত ৪ এপ্রিল নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর কাছে দুই লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। সৈকত সাহা ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং পরে রবীন্দ্রনাথ ঘোষসহ কয়েকজন তাঁকে পূর্ব আগরতলা থানায় নিয়ে যান। সেখানে থানার ভেতরেই তাঁর উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর সৈকত সাহা পূর্ব আগরতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি)-র কাছেও বিষয়টি জানান। কিন্তু সেখান থেকেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়ায় তাঁর মা ত্রিপুরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশের পরই পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করতে বাধ্য হয় এবং মামলার তদন্ত শুরু হয়।

হাইকোর্টের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের ফলে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে বলে মনে করছে আইন মহল। আগামী ২৩ জুনের শুনানিতে তদন্ত সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande