স্মার্ট রেলওয়ের লক্ষ্যে এআই-আধারিত পরিকাঠামো ও ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ক সেমিনার এনএফ রেলের
গুয়াহাটি, ১৭ জুন (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে রেল পরিকাঠামো ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির (এআই) প্রয়োগ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আইআইটি গুয়াহাটির অধ্যাপক অশ
অনুষ্ঠানে এনএফ রেলের জিএম সহ অন্য পদাধিকারীগণ


গুয়াহাটি, ১৭ জুন (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে রেল পরিকাঠামো ব্যবস্থাপনায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির (এআই) প্রয়োগ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং আইআইটি গুয়াহাটির অধ্যাপক অশ্বিনী কে নন্দা অত্যন্ত তথ্যবহুল ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ উপস্থাপনা পেশ করেছেন। তিনি নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়ালি এই কার্যসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

আজ বুধবার এক প্রেস বার্তায় এ খবর দিয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, এই সেশনে রেলওয়ের সুরক্ষা, নির্ভরযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত সেন্সিং প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের রূপান্তরমূলক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই কার্যসূচিতে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব, অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার, বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকগণ এবং মুখ্য কার্যালয় ও বিভিন্ন ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রেজেন্টেশনের সময় অধ্যাপক নন্দা ‘মাল্টিপল সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিজিটাল টুইন ব্যবহার করে স্থায়ী রেলপথ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় ও একক ব্যবস্থা’ শীর্ষক উন্নত ধারণা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত সিস্টেমটি ইন্টেলিজেন্ট সেন্সর নেটওয়ার্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-আধারিত পূর্বাভাসমূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ট্র্যাকের অবস্থার নিরবচ্ছিন্ন মূল্যায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা প্রো-অ্যাক্টিভ রক্ষণাবেক্ষণ ও তথ্য-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এ ধরনের প্রযুক্তির সম্পদ ব্যবস্থাপনার উল্লেখযোগ্য উন্নতি, রক্ষণাবেক্ষণ-সংক্রান্ত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পরিচালনগত নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি এবং রেলওয়ের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার সক্ষমতা রয়েছে।

সমবেতদের উদ্দেশে ভাষণকালে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার সুরক্ষামূলক, স্মার্ট এবং আরও স্থিতিশীল রেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমূহকে গ্রহণ করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, রেল পরিবহণের ভবিষ্যত প্রয়োজনীয়তা মেটাতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং পরিবেশগত দায়িত্ব এক সাথে চলা উচিত। এই আয়োজনে রেলওয়ের সুরক্ষা, দক্ষতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে।

কনফারেন্স চলাকালীন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেছে। এই চলচ্চিত্রে সমগ্র জোন জুড়ে গৃহীত বিভিন্ন পরিবেশ-বান্ধব পদক্ষেপ, যেমন ব্যাপকহারে রেলওয়ে বৈদ্যুতিকরণ, সৌরশক্তির প্রসার, শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য হ্রাসকরণ, বৃক্ষ রোপণ কার্যসূচি এবং বিভিন্ন ডিভিশন, কারখানা ও কার্যালয়ে পরিবেশ-বান্ধব কর্মপদ্ধতি অনুসরণ ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। এই পদক্ষেপগুলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশ-বান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

প্ৰেস বাৰ্তায় কপিঞ্জল কিশোর বলেন, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে স্থিতিশীল বৃদ্ধিতে অবদান রাখে এমন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও পরিবেশ-বান্ধব দায়িত্বশীল অনুশীলন গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অত্যাধুনিক ডিজিটাল সলিউশান এবং চলমান পরিবেশ-বান্ধব পদক্ষেপের সমন্বয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে আধুনিক ও পরিবেশ-সচেতন রেলওয়ে ব্যবস্থা হিসেবে তার অবস্থান আর ও সুদৃঢ় করে চলেছে। এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং এর বাইরের জনসাধারণদের জন্য নিরাপদ, দক্ষ ও স্থিতিশীল রেলওয়ে পরিবহণ সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande