
কলকাতা, ১৭ জুন (হি.স.): ভারত-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত একটি বাণিজ্যিক বাজারে লাগা বিধ্বংসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সশস্ত্র সীমা বলের ৪১তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং ভারত ও নেপালের যৌথ অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টার ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে সীমান্ত এলাকা।
আঞ্চলিক আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিট নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ ও নেপাল সীমান্তের দার্জিলিং জেলার রানিডাঙা এলাকার অন্তর্গত ভাটগাঁও সীমান্ত বাজারে এই আগুন লাগে। দুর্ঘটনাস্থলটি ৪১তম ব্যাটালিয়নের ভাটগাঁও কোম্পানি ক্যাম্প থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত ছিল। বাজারে আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই এসএসবি জওয়ানরা নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, জল এবং বালির বালতি নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দমকলের গাড়ি পৌঁছানোর আগেই তাঁরা স্থানীয় স্তরে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে দেন এবং দমকল আসার পরেও উদ্ধারকাজে সক্রিয় সহযোগিতা করেন। জওয়ানেরা বেশ কয়েকটি দোকানের শাটার ও গেট ভেঙে দমকল কর্মীদের ভেতরে ঢোকার পথ করে দেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মোহাম্মদ নূর আলম কুরেশি নামের এক ব্যক্তির মুরগির দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আধিকারিকদের দাবি, ওই দোকান এবং তার সংলগ্ন চত্বরে বেআইনিভাবে পেট্রোল মজুত করে রাখা ছিল, যার ফলে আগুনের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং তা দ্রুত চারপাশের দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে আশপাশের প্রায় ৬ থেকে ৭টি দোকান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা কেউ আহত হওয়ার খবর মেলেনি। আগুনে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা স্থানীয় প্রশাসনের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই খবর দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় দমকল বিভাগকে। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালের ভদ্রপুর পুরসভা থেকেও হাবিলদার উদয় শেরপার নেতৃত্বে ৬ জন দমকল কর্মীর একটি দল দমকলের ইঞ্জিন সহ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং যৌথভাবে আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগায়। এর প্রায় ২৫ মিনিট পর বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জ এলাকা থেকেও দমকলের আরও একটি গাড়ি সেখানে পৌঁছায়। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূর থেকে আসা এই উদ্ধারকারী দলটিও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভারত ও নেপালের যৌথ বাহিনী এবং এসএসবি জওয়ানিদের টানা ৫০ মিনিটের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ানেরা সবার আগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা না করলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারত, যা সীমান্ত এলাকার এই বাজারে এক বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনত।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি