
কলকাতা, ১৭ জুন (হি.স.): কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা সুশান্ত ঘোষকে গ্রেফতার করল পুলিশ। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের ধারায় এফআইআর দায়ের ছিল। হকারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তিনি গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই সুশান্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল বাহিনী। আনন্দপুর থানায় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন হকার অভিযোগ দায়ের করে জানান, তাঁদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা বেআইনিভাবে উসুল করা হয়েছে। এই অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই সুশান্ত ঘোষ আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে যান। পুলিশ যখন তাঁর পিছু ধাওয়া করে ওড়িশায় পৌঁছয়, তখন তিনি মাঝরাস্তায় নিজের গাড়ি ফেলে চম্পট দেন। সেই সময় তাঁর গাড়িচালক সুজিত চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারলেও সুশান্ত ফসকে যান। অবশেষে বুধবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
উল্লেখ্য, গত মাসেই সুশান্ত ঘোষ ১২ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন, যদিও তিনি কাউন্সিলর পদ ছাড়েননি। পরবর্তীতে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশি তদন্তে ইতিমধ্যেই সুশান্ত ঘোষের নামে বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁর নামে বিপুল পরিমাণ বেনামি সম্পত্তিও রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর সূত্র মারফত জানা গেছে, তাঁর সঙ্গে যুক্ত এই সমস্ত সম্পত্তির আর্থিক মূল্য কয়েকশো কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পুলিশ এখন তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আয়ের উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখতে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করবে।
রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষনেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক ও কাউন্সিলর বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যুক্ত ১০ জন কাউন্সিলরকে ইতিমধ্যেই ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুশান্ত ঘোষের এই গ্রেফতারির পর সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়াল ১১-এ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি