
কলকাতা, ১৮ জুন (হি.স.): মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে নিজেদের ডগ স্কোয়াডকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। লালবাজারের পুলিশ আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই ডগ স্কোয়াডে দুটি ট্র্যাকার ডগ এবং চারটি বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে এই ছয়টি কুকুর মধ্যপ্রদেশের টেকনপুরে অবস্থিত সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর একাডেমিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের সময় এই কুকুরগুলিকে প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মতো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি করে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে তাদের সহনশীলতা এবং কর্মদক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এদের প্রশিক্ষণ পর্ব সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তারপরেই তাদের কলকাতায় নিয়ে আসা হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বর্তমানে কলকাতা পুলিশের ডগ স্কোয়াডে মাত্র দুটি ট্র্যাকার ডগ রয়েছে, যা এই বিশাল শহরের নিরাপত্তার নিরিখে একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। এই খামতি দূর করতেই দুটি ল্যাব্রাডর ছানাকে ট্র্যাকার ডগ হিসেবে বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে। বাকি চারটির মধ্যে দুটি ল্যাব্রাডর এবং দুটি ককার স্প্যানিয়েল জাতের কুকুরকে বিস্ফোরক খুঁজে বের করার কাজে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। এদের মূল কাজ হবে অপরাধের কিনারা করা, ভিভিআইপি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা এবং নাশকতামূলক ছক বানচাল করা।
কলকাতা পুলিশের আধিকারিকদের বক্তব্য, বর্তমান ডগ স্কোয়াডের বেশিরভাগ কুকুরই বিস্ফোরক পদার্থ সনাক্তকরণে অভ্যস্ত। এদের মূলত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াতের আগে রুট মার্চ বা নিরাপত্তা তল্লাশির কাজে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, ট্র্যাকার ডগগুলি অপরাধের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা কোনও সূত্র বা গন্ধের ওপর ভিত্তি করে সন্দেহভাজন অপরাধীদের পালানোর পথ চিহ্নিত করতে এরা ওস্তাদ। খুন, ডাকাতি বা অন্য কোনও গুরুতর অপরাধের কিনারা করতে এই ট্র্যাকার ডগগুলির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আধিকারিকরা আরও জানান, অপরাধী যদি ঘটনাস্থলে নিজের কোনও জিনিস ফেলে যায়, তবে ট্র্যাকার ডগ সেই গন্ধ শুঁকে সুনির্দিষ্ট সূত্র এনে দিতে পারে। একইভাবে, কোনও সন্দেহভাজন বস্তুর খবর মিললে বিস্ফোরক সনাক্তকারী কুকুরদের সাহায্য নেওয়া হয়। লালবাজারের কর্তারা আশাবাদী যে, এই নতুন প্রশিক্ষিত দল ডগ স্কোয়াডে যোগ দিলে কলকাতা পুলিশের অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই মহানগরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও নিশ্ছিদ্র হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি