
নয়াদিল্লি, ১৮ জুন (হি.স.): বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে প্রযুক্তির সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা সুনিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সম্মেলন ‘ভিভাটেক-২০২৬’ -এ অংশ নিয়ে তিনি এই বার্তা দেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই -এর উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও উন্নত করা, তার নাগাল বাড়ানো, সামগ্রিক উন্নয়নকে তরান্বিত করা এবং একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সাহায্য করা। ভারতের কাছে এআই-এর প্রকৃত অর্থ হলো ‘সবকা সাথ’ অর্থাৎ সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তি। ‘এআই কান্ট্রি পার্টনার’ হিসেবে এই সম্মেলনে ভারতের অংশগ্রহণ আমাদের এই প্রগতিশীল ভাবনাকেই প্রতিফলিত করে।
প্রযুক্তি সম্মেলনের আগের এবং বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালের সম্মেলনের সময় গোটা বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারীর চরম সংকটের মুখোমুখি হয়েছিল। আর আজ বিশ্ব এক নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। এই প্রসঙ্গে ২০২১ সালের ভিভাটেক সম্মেলনে দেওয়া নিজের বার্তা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যেখানে ঐতিহ্যগত বা চেনা পদ্ধতিগুলি ব্যর্থ হয়, সেখানেই নতুন উদ্ভাবন বা ইনোভেশন ত্রাতা হিসেবে এগিয়ে আসে। ২০২৬ সালটিকে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের শুরুতেই ঐতিহাসিক ভারত-ইইউ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি মেধা, প্রযুক্তি ও পর্যটনের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। একই সঙ্গে ‘ভারত-ফ্রান্স ইনোভেশন ইয়ার’-এর সূচনার মাধ্যমে ফ্রান্স ভারত ও ইউরোপের প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেমকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছে।
বিগত এক দশকে ভারতের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত আজ অত্যন্ত বড় আকারে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষা, টেলিমেডিসিন ও কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সফল ব্যবহার করছে। এর ফলস্বরূপ আজ ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ার কিংবা প্যারিস বিমানবন্দরেও ভারতীয় পর্যটকেরা অনায়াসে ইউপিআই ব্যবহার করতে পারছেন। বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বৃহত্তম ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম আজ ভারতেই বিদ্যমান। ভারতের ইউপিআই ব্যবস্থার সাফল্যের কারণেই আজ বিশ্বের মোট রিয়েল-টাইম ডিজিটাল লেনদেনের অর্ধেকই ভারতে সম্পন্ন হয়ে থাকে। মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে পরমাণু শক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত আজ মানুষের সক্ষমতার সীমানাকে প্রসারিত করছে। চন্দ্রপৃষ্ঠের দক্ষিণ মেরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ভারতের সফল অবতরণ এবং সম্প্রতি ভারতের প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিয়্যাক্টরের ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন তারই প্রমাণ। এই সাফল্য ভারতকে নিজস্ব বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডার ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রি-স্তরীয় পরমাণু দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের আরও কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি