আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডল গ্রেফতার
পশ্চিম বর্ধমান, ১৯ জুন (হি.স.) : বহু চর্চিত কয়লা পাচার মামলায় অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের (এডিপিসি) স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে। ইডির পক্ষ থেকে এর আগে তাঁকে দ
মনোরঞ্জন মণ্ডল


পশ্চিম বর্ধমান, ১৯ জুন (হি.স.) : বহু চর্চিত কয়লা পাচার মামলায় অবশেষে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের (এডিপিসি) স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে। ইডির পক্ষ থেকে এর আগে তাঁকে দু'বার সমন পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই তিনি শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। অবশেষে বৃহস্পতিবার তিনি কলকাতার ইডি দফতরে হাজিরা দেন। সারা দিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করার পর, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

ইডি সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ কয়লা ব্যবসার পাশাপাশি বালু বা বালি সিন্ডিকেটের সঙ্গে মনোরঞ্জন মণ্ডলের সম্ভাব্য যোগসূত্রের তদন্ত করছিল। এর আগে ইডি মনোরঞ্জন মণ্ডলের আবাসন সহ একাধিক ডেরায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল। সেই তদন্ত চলাকালীন বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং একটি বড় সিন্ডিকেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সামনে এসেছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

মনোরঞ্জন মণ্ডল এর আগে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। শেষ দফায় তাঁকে বুদবুদ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ই দুর্গাপুরে তাঁর সরকারি আবাসে হানা দেয় ইডি। এই ঘটনার পরই তাঁকে বুদবুদ থানা থেকে বদলি করে স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে বারবার তলব করা সত্ত্বেও তিনি জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত হচ্ছিলেন না। এই মামলার তদন্ত এখনও জারি রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বারাবনি থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অসিত সিংহের জন্মদিন উদযাপনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চরম বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মনোরঞ্জন মণ্ডল। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁকে সাসপেন্ড বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলেও খবর সামনে আসে।

আপাতত ইডির পক্ষ থেকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং এই মামলায় আগামী দিনে আরও বড়সড় তথ্য বা নাম সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande