
দুর্গাপুর, ১৯ জুন (হি.স.): এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিশোরের মায়ের ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই এক স্কুলপড়ুয়া কিশোর আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দুই নাবালক সহপাঠীকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার ধৃতদের আসানসোল জুভেনাইল আদালতে তোলা হলে তাদের জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ জুন অন্ডাল থানার কাজোড়া এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার হয় কিশোরের দেহ। প্রথমে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরিবারও প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার কথাই জানিয়েছিল। তবে কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিল কিশোর, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।
তদন্তের অগ্রগতিতে এবং কিশোরের মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখে সামনে আসে বিস্ফোরক অভিযোগ। পরিবারের দাবি, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে কিশোরের মায়ের ছবি বিকৃত করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই বিকৃত ছবি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কিশোরকে মানসিকভাবে হেনস্থা ও ব্ল্যাকমেল করা হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের অভিযোগ, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল কিশোরেরই দুই সহপাঠী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানসিক নির্যাতনের কথা কাউকেই জানায়নি সে। ক্রমশ মানসিক অবসাদে ডুবে গেলেও পরিবারের কাছেও মুখ খোলেনি। শেষ পর্যন্ত সেই চাপই তাকে আত্মঘাতী হতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
ঘটনার পর মৃত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্ডাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে দুই নাবালক সহপাঠীর নামও উল্লেখ করা হয়। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে অভিযুক্ত দু'জনকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাদের আসানসোল জুভেনাইল আদালতে পেশ করা হলে জামিনের আবেদন খারিজ হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ব্ল্যাকমেল ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা