
ঝাড়গ্রাম, ২ জুন (হি.স.) : রাতের অন্ধকারে বাড়ির পাশের বাঁশবাগানে যাওয়ার সময় হাতির হামলায় গুরুতর জখম হয়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। মৃতার নাম লক্ষ্মী রানা (৬৫)। তিনি ঝাড়গ্রাম জেলার ঘৃতখাম গ্রামের বাসিন্দা।
মঙ্গলবার পুলিশ ও বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুমোতে যান লক্ষ্মীদেবী। গভীর রাতে, আনুমানিক সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি বাড়ির পাশের বাঁশবাগানের দিকে যান। পরিবারের দাবি, তিনি বুঝতে পারেননি যে ওই বাঁশবাগানের ভিতরে একটি হাতি অবস্থান করছিল।
বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান, বাঁশবাগানে ঢুকতেই হাতিটি আচমকা তাঁকে আক্রমণ করে। ঘটনাস্থলের কাছেই হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখতে বনকর্মীরা ‘ঐরাবত’ গাড়ি নিয়ে মোতায়েন ছিলেন। হাতির ডাক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চিৎকার শুনে বনকর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছন। গুরুতর জখম অবস্থায় লক্ষ্মীদেবীকে উদ্ধার করে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতার নাতি প্রবীর রানা জানান, “বাড়িতে শৌচাগার থাকা সত্ত্বেও ঠাকুমা রাতে বাঁশবাগানে গিয়েছিলেন। সেখানেই হাতির হামলার শিকার হন। বন দফতরের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।”
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ঝাড়গ্রাম ও লোধাশুলি রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হাতির দল ঘোরাফেরা করছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় মোট ৫৩টি হাতির উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছিল। তার মধ্যে ঘৃতখাম সংলগ্ন জঙ্গলে ছিল দু’টি হাতি। বন আধিকারিকদের অনুমান, ওই হাতিগুলির একটির হামলাতেই মৃত্যু হয়েছে বৃদ্ধার।
মঙ্গলবার হাতির সংখ্যা আরও বেড়ে ৬০-এ পৌঁছেছে বলে বন দফতর জানিয়েছে। যদিও ঘৃতখামে এদিন হাতির উপস্থিতি ছিল না, তবে পাশের জারুলিয়া এলাকায় আটটি এবং জিতুশোলে একটি হাতির অবস্থানের খবর মিলেছে। তাই জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের রাতের বেলায় বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন দফতর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়ই হাতির দল গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ঢুকে পড়ছে। এতে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় ঘৃতখাম গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো