মানুষের পর গোয়ালঘর থেকে গরু টেনে পিষে মারল হাতি, ক্ষোভে পথ অবরোধ গ্রামবাসীদের
ঝাড়গ্রাম, ২০ জুন (হি.স.) : মানুষের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গোয়ালঘর থেকে গরুকে শুঁড়ে টেনে বের করে পিষে মারল হাতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামের পুকুরিয়া এলাকায়। হাতির উপদ্রব থেকে স্থায়ী মুক্তি, ক্ষতিগ্রস্ত
মানুষের পর গোয়ালঘর থেকে গরু টেনে পিষে মারল হাতি, ক্ষোভে পথ অবরোধ গ্রামবাসীদের


ঝাড়গ্রাম, ২০ জুন (হি.স.) : মানুষের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গোয়ালঘর থেকে গরুকে শুঁড়ে টেনে বের করে পিষে মারল হাতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামের পুকুরিয়া এলাকায়। হাতির উপদ্রব থেকে স্থায়ী মুক্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং বনদফতরের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবিতে শনিবার সকালে ঝাড়গ্রাম-চন্দ্রী পিচ রাস্তার পুকুরিয়া এলাকায় পথ অবরোধে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুরিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় প্রায় সারা বছরই হাতির উপদ্রব লেগে থাকে। বাড়িঘর ভাঙচুর, ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই হাতির হামলায় প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুক্রবার গভীর রাতে পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শঙ্কর মাহাতোর গোয়ালঘরের দরজা ভেঙে একটি গরুকে শুঁড়ে টেনে বাইরে এনে পিষে মেরে ফেলে হাতির দল বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুকুরিয়া এলাকায় প্রচুর আম, কাঁঠাল-সহ বিভিন্ন ফলের গাছ রয়েছে। ফলের গন্ধেই হাতির দল বারবার গ্রামে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

বনদফতর ও স্থানীয় সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পুকুরিয়া বিটের কুন্ডলডিহি, পুকুরিয়া, শিমুলডাঙা, বনকাটি, আঁধারিশোল-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সাত থেকে আটটি হাতির একটি দল ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু এতদিন কেটে গেলেও হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরাতে বনদফতরের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে প্রতিদিনই নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ছেন বাসিন্দারা।

এদিনের অবরোধে সামিল স্থানীয় বাসিন্দা গান্ধারী মাহাত ও রথিন মাহাতো অভিযোগ করেন, এলাকার বিট অফিসার গ্রামবাসীদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন না। বারবার আবেদন জানানো হলেও হাতি তাড়ানোর জন্য কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, দিনে তিন থেকে চারবার পর্যন্ত হাতির দল গ্রামে ঢুকে পড়ছে। শুক্রবার রাতের ঘটনায় গোয়ালঘর থেকে গরু টেনে বের করে মেরে ফেলার পরও বনদফতরের কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি। বাধ্য হয়েই তাঁরা পথ অবরোধে নামেন।

ঘটনার জেরে এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বনদফতরের দ্রুত ও স্থায়ী পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande