
কলকাতা, ২০ জুন (হি.স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালির হেনরি আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গল থেকে ২৩ দিন ধরে নিখোঁজ এক বিবাহিতা মহিলার পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত মহিলার নাম রাবিয়া ফকির (৩৪)। তিনি জয়নগরের বকুলতলা থানা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে জহিরুল সর্দার নামে তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি জঙ্গলের মধ্যে বালির নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। ধৃত অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সেখান থেকেই দেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিবাহিত রাবিয়া ফকিরের সঙ্গে তাঁরই এলাকার বাসিন্দা জহিরুল সর্দারের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন ও বিবাদ চলছিল বলে জানা গেছে। এরপর গত ২৬ মে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান রাবিয়া। পরিবারের পক্ষ থেকে বকুলতলা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল।
ঘটনার তদন্তে নেমে গত ১৮ জুন পুলিশ জহিরুল সর্দারকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে ধৃত অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে, ২৬ মে সে রাবিয়াকে বকখালিতে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে হেনরি আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে শ্বাসরোধ করে রাবিয়াকে খুন করে এবং দেহটি বালির নিচে চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখে।
শুক্রবার রাতে বকুলতলা থানা এবং ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে হেনরি আইল্যান্ডে পৌঁছায় এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মৃতার ভাই আশরফ ফকির শনিবার অভিযোগ করেন, জহিরুল তাঁর বোনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিল এবং পরে তাঁকে খুন করে দেহ লোপাটের চেষ্টা চালায়। তিনি অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই খুনের ঘটনা এবং দেহ আড়াল করার পিছনে অভিযুক্ত ছাড়া অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি