

কলকাতা, ২০ জুন (হি.স.): শনিবার ২০ জুন—রাজ্যের সরকারি দিনপঞ্জিতে যা ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। বাংলার প্রতিটি কোণে থাকা বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও উদযাপিত হচ্ছে এই দিনটি। সেই লক্ষ্যে শনিবার দক্ষিণ কলকাতার আশুতোষ কলেজে আয়োজিত হলো এক বিশেষ কর্মসূচি। গোটা দিনের এই কর্মসূচি মূল দুটি পর্বে পালিত হয়। প্রথম পর্বে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজই প্রধান স্থপতি শীর্ষক একটি বিতর্ক সভার আয়োজন করা হয়। কলেজের বিভিন্ন বিভাগের সর্বমোট ২৪ জন ছাত্র-ছাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পূর্ণতা পায় সভাগৃহ। দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ বক্তৃতা রাখেন মেঘালয় এবং ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। তাঁর বক্তৃতার বিষয় ছিল—‘পশ্চিমবঙ্গের জন্ম এবং শ্যামাপ্রসাদ’।
দ্বিতীয় পর্বের সূচনা হয় সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গায়নের মধ্য দিয়ে। গীত শেষে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। স্বাগত ভাষণ দেন কলেজের অধ্যক্ষ মানস কবি। এই বিশেষ দিনে কলেজের বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপস্থিতিকে কুর্নিশ জানিয়ে তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বহু ব্যস্ততার মাঝেও কলেজের এই ছোট্ট অনুষ্ঠানে তথাগত রায়ের উপস্থিতিকে বিশেষ সম্মান জানান তিনি। অতিথিদের মধ্যে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এভিবিপি) ন্যাশনাল কনভেনর অপূর্ব নন্দী।
পশ্চিমবঙ্গের জন্মবৃত্তান্ত প্রসঙ্গে তথাগত বাবু প্রথমেই তুলে ধরেন জাতিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, নামকরণ, ভাষা, ধর্মাচরণ, খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক-পরিচ্ছদের পার্থক্য। তিনি জানান, ১৯৩৭ সালে বাংলায় ভোট হলেও কোনও দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কিছু জনসমর্থন যায় কংগ্রেসের ঝুলিতে এবং কিছু যায় মুসলিম লীগের পক্ষে। রাজনৈতিক কারণে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত হিন্দু বাঙালির ওপর অর্থনৈতিক অত্যাচার চলে। অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগের রাজত্বকালে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে মৃত্যু হয় ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষের। এই ক্রমাগত অত্যাচার রুখতে হিন্দু মহাসভার প্রতিনিধি হয়ে প্রতিবাদের মঞ্চে দাঁড়ান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। এই সমসাময়িক সময়ে তৎকালীন মুসলিম লীগ প্রধান মহম্মদ আলি জিন্নাহ পাকিস্তানের দাবিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’-এর (ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে) ডাক দেন। এর জেরে ১৬-১৯ আগস্ট গোটা বাংলা জুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়, যাতে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার হিন্দুর মৃত্যু হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে অবশেষে দেশভাগের সিদ্ধান্ত স্থির হয়। এই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দাবি তোলেন—ভারত ভাগ হলে বাংলাও ভাগ করতে হবে। জিন্নাহর অমত থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত আইন পাস হয় এবং বাংলা ভাগ হয়। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান যুগ যুগ ধরে মনে রাখবে বাংলা ও বাঙালিরা। অন্যদিকে, অপূর্ব নন্দী বলেন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস ২০ জুন পালনের পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাংলার সেই হৃত গৌরব আবারও আগামী প্রজন্মের হাত ধরে ফিরিয়ে আনতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিতর্ক সভার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে গোটা দিনের অনুষ্ঠানের।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৃজিতা বসাক