দাবি পূরণে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে ২৪ জুন থেকে রেল-সড়ক অবরোধে অনড় আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরা
আগরতলা, ২০ জুন (হি.স.) : দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন সংক্রান্ত দাবি পূরণে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট আশ্বাস না পেলে আগামী ২৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দুই
আত্মসমর্পণকারী জঙ্গি নেতা


আগরতলা, ২০ জুন (হি.স.) : দীর্ঘদিনের পুনর্বাসন সংক্রান্ত দাবি পূরণে মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট আশ্বাস না পেলে আগামী ২৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের দুই সংগঠন। শনিবার রাজ্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংগঠনের নেতারা তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে একথা জানান।

জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএসি) এবং জয়েন্ট অ্যাকশন রিহ্যাবিলিটেশন কমিটি (জেএআরসি)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে পুনর্বাসনের দাবিতে তাঁরা আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু একাধিকবার দাবি উত্থাপন করা হলেও এখনও পর্যন্ত সরকার কার্যকর কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। ফলে বাধ্য হয়েই আগামী ২৪ জুন থেকে জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের আগে রাজ্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র ত্যাগ করে মূল স্রোতে ফিরে আসেন। শান্তিপূর্ণ জীবনে প্রত্যাবর্তনের বিনিময়ে তাঁদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি তাঁরা তাঁদের ৯ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিয়ে আন্দোলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার আগরতলায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) কার্যালয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার চন্দন সাহা। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে ৯ দফা দাবি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে জেএআরসি-র কার্যকরী সভাপতি পার্শ্বরাম ত্রিপুরা (থমাস), সাধারণ সম্পাদক অনন্ত কুমার জমাতিয়া ও সহ-সভাপতি বিনয় দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে জেএসি-র পক্ষ থেকে সভাপতি উত্তম জয় রিয়াং, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণচন্দ্র জমাতিয়া-সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনগুলোর নেতারা বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি ইতিবাচক আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন না। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে অপেক্ষা করেও বাস্তব সুবিধা না পাওয়ায় সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

তবে বৈঠকে স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করে জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। সেখানে দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করা হবে।

আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিদের উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—প্রত্যেক আত্মসমর্পণকারীকে পৃথকভাবে পাওয়ার টিলার প্রদান, এআরডিবি প্রকল্পের মাধ্যমে হাঁস, মোরগ, দুগ্ধবতী গাভী, ছাগল ও শূকর বিতরণ, মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় স্থায়ী বাসগৃহ নির্মাণ এবং অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা।

এদিকে ২৪ জুন থেকে সম্ভাব্য জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধের ঘোষণায় প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন সরকারের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande