
ওয়াশিংটন, ২৪ জুন (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ায় টানা উত্তেজনার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে একদিনে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লক্ষ (১৯ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণই তার স্পষ্ট প্রমাণ।
মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও কমতে শুরু করেছে। তাঁর দাবি, এর ফলে বিশ্ব এখন অনেক বেশি নিরাপদ অবস্থায় পৌঁছেছে।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু-হু করে বেড়ে যায় এবং বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল-পিছু ৪৫ সেন্ট কমে ৭৭.৪৫ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ৩৪ সেন্ট কমে প্রায় ৭৩.৫২ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। দুই দেশ আগামী ৬০ দিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার মার্কিন প্রশাসন সাময়িকভাবে ইরানের তেল রফতানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। জারি করা ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স অনুযায়ী আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য ও পেট্রোকেমিক্যাল-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের শুরুতে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা করলেও মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খোলা রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক হারে তেল পরিবহণ শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কেটেছে। তবে এই জলপথ এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন-তেহরান কূটনৈতিক আলোচনার সাফল্য এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্ন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দামে সাম্প্রতিক পতন ভোক্তা ও শিল্পমহলের জন্য স্বস্তির বার্তা হলেও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামান্য অবনতিও আবার বাজারে অস্থিরতা ফিরিয়ে আনতে পারে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতি ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য