হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায়ের প্রস্তাব মানবে না আমেরিকা, ইরানকে স্পষ্ট বার্তা রুবিওর
দুবাই, ২৪ জুন (হি.স.) : হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের উপর ইরান কোনও ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপ করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ।
হরমুজ প্রণালীতে টোল আদায়ের প্রস্তাব মানবে না আমেরিকা, ইরানকে স্পষ্ট বার্তা রুবিওর


দুবাই, ২৪ জুন (হি.স.) : হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের উপর ইরান কোনও ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপ করতে পারবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনও দেশ একতরফাভাবে অর্থ আদায় করতে পারে না।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফরের শুরুতে মঙ্গলবার রুবিও বলেন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনে হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত। এই জলপথে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর উভয় দেশ ৬০ দিনের আলোচনায় সম্মত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডে প্রাথমিক বৈঠকের পর শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক পরিষেবার ব্যয় নিয়ে তারা যৌথভাবে পর্যালোচনা করবে। একইসঙ্গে দুই দেশই এই প্রণালীর ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে কোনও ধরনের বাধা বা বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

সাম্প্রতিক সংঘাত চলাকালীন ইরানের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বেড়ে যায়। যুদ্ধ-বিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।

অন্যদিকে, পাকিস্তান সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের আলোচনা হবে না। তাঁর দাবি, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন-তেহরানের প্রাথমিক সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে এই ইস্যুটি এখনও দুই দেশের মধ্যে অন্যতম বড় মতপার্থক্যের বিষয় হয়ে রয়েছে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও মতবিরোধ অব্যাহত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। যদিও তেহরান সেই দাবি খারিজ করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, ইরান, ওমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার পর সংঘাতের সময় আটকে পড়া ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

কূটনৈতিক আলোচনাকে এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ হিসেবে ওয়াশিংটন ইরানের স্থগিত অর্থের একটি অংশ ছাড়তেও নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি ইতিবাচক হলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পরমাণু স্থাপনার আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনও অমীমাংসিত। ফলে আগামী দুই মাসের আলোচনা পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ শান্তি ও বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande