'তিপ্রাল্যান্ড এখনও স্বপ্নই রয়ে গেছে’— আগরতলায় সরব তিপ্রাল্যান্ড স্টেটহুড ডিমান্ড কমিটি
আগরতলা, ২৫ জুন (হি.স.) : পৃথক তিপ্রাল্যান্ড রাজ্য গঠনের দাবি এখনও বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনজাতি সমাজকে বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করে নতুনভাবে আন্দোলনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিপ্রাল্যান্ড স্টেটহুড ডিমান্ড কমিটির চেয়ারম্যান অঘোর দেববর্মা
সাংবাদিক সম্মেলন


আগরতলা, ২৫ জুন (হি.স.) : পৃথক তিপ্রাল্যান্ড রাজ্য গঠনের দাবি এখনও বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনজাতি সমাজকে বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবন করে নতুনভাবে আন্দোলনের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিপ্রাল্যান্ড স্টেটহুড ডিমান্ড কমিটির চেয়ারম্যান অঘোর দেববর্মা। বৃহস্পতিবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অমুল্য দেববর্মা, সাধারণ সম্পাদক জম্পু দেববর্মা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জনজাতিদের স্বার্থরক্ষার নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করলেও বাস্তবে তাঁদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত হয়নি।

অঘোর দেববর্মা বলেন, ২০০৯ সালে গঠিত ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (আইপিএফটি) আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার, ভূমি, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করেছিল। দলটির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলি নিয়ে পৃথক ‘তিপ্রাল্যান্ড’ রাজ্য গঠন। পাশাপাশি ককবরক ভাষার বিকাশ, আদিবাসী যুবকদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর ক্ষমতা বৃদ্ধির দাবিও ছিল তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম বিষয়।

তিনি বলেন, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র শরিক হিসেবে আইপিএফটি সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও জনজাতিদের স্বার্থরক্ষায় দলটির ভূমিকা আশানুরূপ নয়। ফলে তিপ্রাল্যান্ডের দাবি কার্যত আজও অপূর্ণ থেকে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জনজাতি সমাজকে তাঁদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায় তিপ্রাল্যান্ড স্টেটহুড ডিমান্ড কমিটি।

অঘোর দেববর্মা আরও বলেন, ২০২১ সালে প্রদ্যোৎ কিশোর মাণিক্য দেববর্মার নেতৃত্বে ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর দাবিকে সামনে রেখে তিপ্রা মথার আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে দলটি টিটিএএডিসি-র ক্ষমতা দখল করে এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পুনরায় শাসন ক্ষমতায় আসে। তবে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায় এলেও জনজাতিদের অস্তিত্ব, অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার ক্ষেত্রে তিপ্রা মথার কার্যকর কোনও রূপরেখা এখনও দৃশ্যমান নয়।

তাঁর কথায়, “শুধু দাবি তোলা বা রাজনৈতিক স্লোগান দিলেই হবে না, সেই দাবির বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জনজাতি সমাজের উন্নয়নে প্রকৃতপক্ষে কারা কাজ করছে, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র প্রদ্যোৎ কিশোরের উপর সমস্ত দায় চাপিয়ে দিলে হবে না। তাঁর আশপাশে থাকা নেতৃবৃন্দও উচ্চশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে জনজাতি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে তাঁদেরও আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিপ্রাল্যান্ড স্টেটহুড ডিমান্ড কমিটির নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, জনজাতি সমাজের সার্বিক উন্নয়ন, সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষা এবং পৃথক তিপ্রাল্যান্ডের দাবিকে পুনরুজ্জীবিত করতে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটবেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব উন্নয়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই জনজাতি সমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande