
ভিক্টোরিয়া, ২৮ জুন (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার সেশেলসের পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। এটি হল ২০-তম পার্লামেন্ট, যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভাষণ দিলেন। সেশেলসের পার্লামেন্টে বক্তৃতার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই বছরটি আমাদের অংশীদারিত্বের গভীরতার এক জোরালো স্মারক। ৫০ বছর আগে, আপনাদের স্বাধীনতার প্রাকলগ্নে, বন্ধুত্ব ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ 'আইএনএস নীলগিরি' পোর্ট ভিক্টোরিয়ায় উপস্থিত ছিল। এখন আপনাদের সঙ্গে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের জন্য 'আইএনএস তর্কশ' এবং 'আইএনএস ঈক্ষক' পোর্ট ভিক্টোরিয়ায় নোঙর করেছে। ৫০ বছরের ব্যবধানে অনেক কিছুই বদলে গেছে; কিন্তু একে অপরের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হয়নি। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, হাইড্রোগ্রাফি এবং সামুদ্রিক ক্ষেত্র বিষয়ক সচেতনতার ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়ে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে। আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি 'মহাসাগর' ধারণার মধ্যেই নিহিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি স্বীকার করে যে আমাদের ভবিষ্যৎ একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত ও পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল; এবং একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা যৌথভাবে কাজ করে যাব।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, আমাদের বন্ধুত্ব ৫০ বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয়নি। এর সূচনা হয়েছিল আরও অনেক আগে, ১৭৭০ সালের আগস্ট মাসে। 'থেলেমাক' জাহাজে করে সেন্ট অ্যান দ্বীপে যারা পৌঁছেছিলেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ভারতীয়। সেই যাত্রা পরবর্তী আরও অনেকের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সেই কাহিনী আধুনিক সেশেলসের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের মধ্যে এই বন্ধন কোনও সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠেনি। বরং সাধারণ মানুষ এই বন্ধন গড়ে তুলেছে, পরিবারগুলো একে লালন করেছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা টিকিয়ে রেখেছে। ভারত মহাসাগরই এই মেলবন্ধনকে সম্ভব করে তুলেছে। ভারত মহাসাগর ভারতকে সেশেলস থেকে বিচ্ছিন্ন করে না, বরং আমাদের সংযুক্ত করে। আর তাই, আমরা একে অপরের কাছে অপরিচিত কেউ নই, বরং পুরনো বন্ধু হিসেবে মিলিত হই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যৌথভাবে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং সুস্থায়ী পর্যটন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারি। আসুন আমরা এমনভাবে একসঙ্গে কাজ করি যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এমন এক মহাসাগর পায় যা আজকের তুলনায় আরও স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং সম্পদসমৃদ্ধ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সংবাদ