গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে পরিবেশগত মূল্যায়ন নিয়ে ফের প্রশ্ন তুললেন জয়রাম রমেশ
নয়াদিল্লি, ৩ জুন (হি.স.) : আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গ্রেট নিকোবরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের উচ্চাভিলাষী পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক থামছে না। এবার ফের পরিবেশগত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন ক
গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন জয়রাম রমেশ


নয়াদিল্লি, ৩ জুন (হি.স.) : আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের গ্রেট নিকোবরকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র সরকারের উচ্চাভিলাষী পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক থামছে না। এবার ফের পরিবেশগত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।

কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে লেখা এক চিঠিতে জয়রাম রমেশ দাবি করেছেন, প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু আইনের ভাষাই নয়, তার মূল উদ্দেশ্যও উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, গ্রেট নিকোবরের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলের জন্য যে বিস্তৃত ও বহু-মৌসুমি সমীক্ষা প্রয়োজন ছিল, বাস্তবে তার পরিবর্তে সীমিত সময়ে সংগৃহীত তথ্যের উপর নির্ভর করেই পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

রমেশের বক্তব্য, ২০২২ সালের পরিবেশ প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছিল যে সমীক্ষাটি ছিল প্রাথমিক ও দ্রুতগতির মূল্যায়ন। অথচ প্রকল্পটির ব্যাপ্তি এবং সম্ভাব্য প্রভাবের নিরিখে দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত গবেষণা অপরিহার্য ছিল। তাঁর দাবি, কয়েক সপ্তাহের তথ্যের ভিত্তিতে এমন একটি প্রকল্পের মূল্যায়ন করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর বনভূমি প্রভাবিত হতে পারে।

চিঠিতে তিনি জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনালের (এনজিটি) ২০২৩ সালের পর্যবেক্ষণেরও উল্লেখ করেন। রমেশের দাবি, এনজিটিও প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্রে একাধিক অনিষ্পন্ন প্রশ্নের কথা উল্লেখ করেছিল এবং আরও বিস্তারিত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল।

তিনি বিশেষভাবে গালাথিয়া উপসাগর এলাকার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) তথ্য অনুযায়ী ওই অঞ্চলের একাধিক উপকূলীয় এলাকায় ক্ষয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্দর নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ঋতুতে তথ্য সংগ্রহ করে বিস্তারিত পরিবেশগত সমীক্ষা হওয়া উচিত ছিল।

কংগ্রেস নেতার আরও অভিযোগ, প্রকল্পের পরিবেশগত সমীক্ষা প্রস্তুতকারী ও তা পর্যালোচনাকারী সংস্থাগুলি একই প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে থাকায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে কেন্দ্র সরকার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। এর আগেই পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জয়রাম রমেশের পূর্ববর্তী চিঠির জবাবে জানিয়েছিলেন, গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন সমস্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকল্প সংক্রান্ত পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বিষয়গুলি আইনি ও বিচারিক পর্যালোচনার বিভিন্ন স্তরে ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রস্তাবিত গ্রেট নিকোবর প্রকল্পে একটি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর, আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং একটি আধুনিক উপকূলীয় শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্র সরকারের মতে, এই প্রকল্প ভারতকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে পরিবেশবিদদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে দ্বীপের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্রের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande