ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মগোষ্ঠীর বৈঠক ঘিরে কাশীতে বিশ্বমঞ্চে উঠছে জিআই ও ওডিওপি পণ্যের সম্ভার
বারাণসী, ৩ জুন (হি.স.) : ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে শুরু হচ্ছে ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মগোষ্ঠীর দ্বিতীয় বৈঠক। দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেবেন বিভিন্ন দেশের কূটনীত
ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মগোষ্ঠীর বৈঠক ঘিরে কাশীতে বিশ্বমঞ্চে উঠছে জিআই ও ওডিওপি পণ্যের সম্ভার


বারাণসী, ৩ জুন (হি.স.) : ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে শুরু হচ্ছে ব্রিকস সংস্কৃতি কর্মগোষ্ঠীর দ্বিতীয় বৈঠক। দুই দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেবেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নীতি নির্ধারক, সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিনিধিরা। তবে সরকারি বৈঠকের পাশাপাশি কাশীর ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কারুশিল্পও এই মঞ্চে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।

বারাণসীর তাজ হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) এবং এক জেলা এক পণ্য (ওডিওপি) স্বীকৃত পণ্যের বিশেষ প্রদর্শনী। কাশীর ছয়জন নির্বাচিত শিল্পী তাঁদের ছয়টি ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরবেন। লক্ষ্য একটাই—স্থানীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা।

উত্তর প্রদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরেই জিআই ও ওডিওপি পণ্যের সংরক্ষণ, বিপণন এবং রফতানি বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে আসছে। তারই ফলস্বরূপ কাশীর বহু প্রাচীন শিল্প ও কারুশিল্প নতুন বাজার এবং নতুন পরিচয় পেয়েছে। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চ সেই প্রচেষ্টাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত জিআই বিশেষজ্ঞ রজনীকান্তের মতে, ব্রিকস প্রতিনিধিদের উপস্থিতি স্থানীয় শিল্পী ও উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিরল সুযোগ। তাঁর কথায়, বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে সরাসরি পণ্যের প্রদর্শন ভবিষ্যতে রফতানি বৃদ্ধির পথ খুলে দিতে পারে। এর ফলে কাশীর ঐতিহ্যবাহী শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বারাণসী উডেন লাখওয়্যার ও খেলনা শিল্পী রামেশ্বর সিংও মনে করেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ স্থানীয় শিল্পীদের দক্ষতাকে ‘লোকাল’ থেকে ‘গ্লোবাল’ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।

গোলাপি মিনাকারি শিল্পের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী কুঞ্জবিহারীর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জিআই ও ওডিওপি পণ্যের কার্যত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়ে উঠেছেন। তাঁর দাবি, এই উদ্যোগের ফলে বহু বিলুপ্তপ্রায় শিল্প নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকেও অর্ডার আসতে পারে।

গ্লাস বিডস শিল্পী দুর্গাপ্রসাদ প্যাটেল বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সুযোগ খুব বেশি আসে না। এই ধরনের অনুষ্ঠান ভারতীয় হস্তশিল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

প্রদর্শনীতে যে পণ্যগুলি বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে, তার মধ্যে রয়েছে— বেনারসি গোলাপি মিনাকারি, বেনারসি ব্রোকেড ও শাড়ি, বারাণসীর সফট স্টোন জালি শিল্প, কাঠের লাখওয়্যার ও খেলনা, মেটাল রিপোজে কারুশিল্প এবং বিখ্যাত বেনারসি গ্লাস বিডস।

কাশীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, কারুশিল্পের সূক্ষ্মতা এবং স্থানীয় শিল্পীদের দক্ষতা এবার ব্রিকসের আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা সাড়া ফেলে, সেদিকেই নজর থাকছে শিল্পমহল এবং প্রশাসনের।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande