
- অসমে ৩ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ সহ স্বাক্ষরিত মোট ২৮৫টি মউ চুক্তি
গুয়াহাটি, ১৫ জুলাই (হি.স.) : গত ১০ জুলাই অসম বিধানসভায় উপস্থাপিত রাজ্য বাজেটে অসমের শিল্পক্ষেত্ৰের উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। এর মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রের উন্নয়ন হলে অসম দেশের শীর্ষ পাঁচ রাজ্যের শ্রেণিভুক্ত হবে, বলেছে অসম প্ৰদেশ বিজেপি।
আজ বুধবার এক প্রেস বিবৃতিতে অসম প্রদেশ বিজেপির মুখপাত্র ড. দেবজিৎ মহন্ত বলেছেন, ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্বপ্ন অনুযায়ী অসমকে দেশের শীর্ষ পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে স্থান করে দিতে শিল্পখাতের সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য পূরণে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে। এর প্রতিফলন দেখা গেছে গত ১০ জুলাই বিধানসভায় উপস্থাপিত রাজ্য বাজেটে।
বিবৃতিতে ড. দেবজিৎ বলেন, বাজেটে কোকরাঝাড়ের রূপশ্রী বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎ খাতে পাম্পড স্টোরেজ ব্যবস্থার সংযোজনকে একটি সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বঙাইগাঁওয়ে মাল্টি-মোডাল লজিস্টিক পার্ক নির্মাণের পাশাপাশি ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কোকরাঝাড় থেকে ভুটান পর্যন্ত প্রায় ৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রূপশ্রী বিমানবন্দরকে সব ঋতুতে বিমান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এটিআর-৭২ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে এ-৩২০ বিমান পরিচালনার উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তোলার কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
আশা করা হচ্ছে, রূপশ্রী বিমানবন্দর নিম্ন অসমকে পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং প্রতিবেশী দেশ ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করবে এবং বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া, নবায়নযোগ্য শক্তির সম্প্রসারণ এবং টেকসই শিল্পোন্নয়ন নিশ্চিত করতে আগামী পাঁচ বছরে ২৭,১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪,৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে অসম সরকার।
শিল্প সম্প্রসারণে গতি আনতে ‘অসম সমবায় সমিতি আইন, ২০০৭’-এর সংশোধন করে সমবায় সমিতি নিবন্ধনের সময়সীমা ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা আরও সহজ হবে।
গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে যাতে নিবন্ধন বা সরকারি অনুমোদন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই অসম মন্ত্রিসভা ২০২২ সালের ৭ মার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এখন শুধুমাত্র স্ব-ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতেই গ্রামে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প স্থাপন করা যাবে। শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিদর্শনের বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে তিন বছর পর্যন্ত কোনও লাইসেন্স, নিবন্ধন বা ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই যে কেউ ক্ষুদ্র, ছোট বা মাঝারি শিল্প শুরু করতে পারবেন।
‘অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০’ রাজ্যে শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই সম্মেলনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (মউ), বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং শিল্পপতিদের ঘোষণার ভিত্তিতে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মোট ২৮৫টি মউ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলির ভিত্তিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষ পাঁচটি ক্ষেত্র যথাক্রমে, শিল্পে ৮২,৫৫৪ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ খাতে ৬৬,২৮৭ কোটি টাকা, খনি ও খনিজ সম্পদে ১৩,৬০০ কোটি টাকা, তথ্যপ্রযুক্তিতে ৪,৭৮৬ কোটি টাকা এবং পরিবেশ ও বন বিভাগে ৪,৪০১ কোটি টাকা।
অসমকে মাছ, দুধ, মাংস এবং ডিম উৎপাদনে আত্মনির্ভর করে তুলতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে ঘোষিত বিভিন্ন পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে রাজ্যে দুধ উৎপাদন ২৮ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৭ লক্ষ লিটারে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি লিটার দুধে ৫ টাকা ভর্তুকি প্রদানের সিদ্ধান্তও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
‘মুখ্যমন্ত্রীর আত্মনির্ভর অসম অভিযান’ প্রকল্পের অধীনে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে অতিরিক্ত ৫০ হাজার যুবক-যুবতীকে অন্তর্ভুক্ত করে স্বনিয়োজিত কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এছাড়া, অসমের গৌরবময় ২০০ বছরের চা শিল্পের বিকাশে ‘অসম চা শিল্প বিশেষ প্রণোদনা প্রকল্প’-এর অধীনে অর্থোডক্স চায়ের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা এবং সিটিসি চায়ের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সরকারি ঘোষণাকে চা শিল্পের জন্য অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে অসমে অর্থোডক্স চায়ের উৎপাদন ছিল ৪.৩৯ কোটি কিলোগ্রাম। তা বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৮ কোটি কিলোগ্রামে পৌঁছেছে, যা গত চার বছরে ৮০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস