সরাসরি আর্থিক সহায়তাই অসমে ১৪.৪৭ শতাংশে দারিদ্র্য নামানোর প্রধান কারণ : মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত
- ‘বামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন’ গুয়াহাটি, ১৫ জুলাই (হি.স.) : ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) বা সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রকল্পই রাজ্যে দারিদ্র্য হ্রাসের সবচেয়ে বড় চালিকাশক
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা


- ‘বামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন’

গুয়াহাটি, ১৫ জুলাই (হি.স.) : ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) বা সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রকল্পই রাজ্যে দারিদ্র্য হ্রাসের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, সরকার এখন বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে।

আজ বুধবার রাজ্য বিধানসভায় বাজেটের ওপর আলোচনার জবাবি ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, ২০১৫ সালে অসমে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ছিল ৩২.৬৭ শতাংশ, এখন তা কমে ১৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণে সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা (ডিবিটি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য এই হারকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনা।’

ডিবিটিকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে হলে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি আরও বলেন, কৃষি, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) কিংবা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব হলেও সেই প্রক্রিয়ায় অনেক বেশি সময় লাগে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের সহযোগিতার ফলেই অসমে বৃহৎ পরিকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টার ফলেই কাজিরঙা এলিভেটেড করিডর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশে প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গ নির্মাণের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে।

একইসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের পূর্ববর্তী সরকারগুলির সমালোচনা করে বলেন, সে সময় বহু মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আধার না থাকায় দারিদ্র্য দূরীকরণে কার্যকর সাফল্য আসেনি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর কল্যাণমূলক প্রকল্পে অর্থ অপচয় সংক্রান্ত মন্তব্যের প্ৰসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, অতীতে সরকারি সুবিধার খুব সামান্য অংশই প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছত।

তিনি বলেন, অরুণোদয়, নিজুত মইনা এবং বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ প্রকল্প সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অসমে দারিদ্র্য কমাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে।

প্ৰসঙ্গক্ৰমে ড. শৰ্মা সতৰ্ক করে বলেন, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন উন্ননমূলক তথা পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। এই অপচেষ্টা অবশ্য তাদের ফলপ্রসূ হবে না।

তিনি বলেন, ‘রাজ্যের বাজেটের আকার বাড়াতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। আর সেই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে শিল্পায়ন, কৃষি এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

বিরোধীদের বাজেটকে ‘কপি-পেস্ট’ বলে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভাবনার প্রতিফলন। তিনি বিধায়কদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের বিধানসভা এলাকায় উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ দিতে হবে, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে হবে এবং যে সকল যুবক-যুবতী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁদের দিকনির্দেশনা দিয়ে আত্মনির্ভর অসম গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande