কলকাতায় আইন-শৃঙ্খলা পর্যালোচনা বৈঠক অমিত শাহের, নারী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ
কলকাতা, ১৯ জুলাই (হি.স.): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ রবিবার কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দ
পর্যালোচনা বৈঠক অমিত শাহের


কলকাতা, ১৯ জুলাই (হি.স.): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ রবিবার কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা। বৈঠক চলাকালীন নারী নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, পুলিশের আধুনিকীকরণ, সাইবার ক্রাইম এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে অমিত শাহ গ্রামীণ এলাকায় নারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে রাজ্যে ‘মহিলা আউটরিচ কর্মসূচি’ চালু করার নির্দেশ দেন। তিনি আধিকারিকদের গ্রামীণ নারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তুলে তাঁদের সচেতন ও ক্ষমতায়ন করার কথা বলেন। এর পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই বিষয়ে যেকোনোও ধরণের সহায়তার জন্য রাজ্য সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে রাজ্যে বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই সংস্থাটি অ্যান্টি নারকোটিক্স টাস্ক ফোর্স , অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার ধাঁচে কাজ করবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গ সংক্রান্ত সমস্ত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করবে এনআইএ। এছাড়া, সীমান্ত এলাকায় সরকারি জমিতে হওয়া সমস্ত বেআইনি দখলদারি অবিলম্বে হঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আধুনিকীকরণ, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পরিষেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত বাজেট সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পুলিশ বাহিনীর ক্যাডার পর্যালোচনা করে জাতীয় গড়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি, পুলিশ জেলাগুলির যৌক্তিক পুনর্গঠন, সমস্ত শূন্যপদে সময়সীমা মেনে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কনস্টেবল পদে স্থায়ী নিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন।

বৈঠকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, অতীতে মাওবাদী উপদ্রুত । এলাকাগুলিতে স্থাপিত নিরাপত্তা শিবির বা ক্যাম্পগুলির এক-তৃতীয়াংশ অংশকে এবার জনপরিষেবা কেন্দ্রে (জন সুবিধা কেন্দ্র) রূপান্তরিত করা হবে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা সহজেই সমস্ত সরকারি পরিষেবা পেতে পারেন।

এর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, মাদক পাচার রুখতে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক আয়োজন এবং কলকাতার জন্য একটি ব্যাপক বন্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের শেষে সমস্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত কাজগুলি সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande